
X
সারা দেশে নারীদের ওপর হামলা ও সহিংসতার প্রতিবাদ জানাতে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি দিয়েছে। একই সঙ্গে তারা আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ পরিবেশ তৈরির দাবি জানিয়েছে।
রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন কমিশনে উপস্থিত হয়ে প্রতিনিধি দলটি নারীদের ওপর সংঘটিত সহিংসতার বিভিন্ন ঘটনার ছবি ও ভিডিওসহ প্রামাণ্য নথিপত্র জমা দেয়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নুরুন্নেসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল সাইয়িদা রহমান, মার্জিয়া বেগম এবং কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী।
এ সময় ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫০ শতাংশ নারী হলেও গত ১৫-১৬ বছর ধরে তারা প্রকৃত অর্থে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। তাই আগামী ১২ জানুয়ারির নির্বাচনে নারীরা যেন ভয়ভীতি ও বাধাহীন পরিবেশে ভোট দিতে পারেন, সে দাবিই তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে তুলে ধরেছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, নারীদের রাজনৈতিক সচেতনতা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বাড়তে থাকায় একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে পরিকল্পিতভাবে নারীদের ওপর হামলা চালাচ্ছে, যাতে তারা ভোট দেওয়া ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকে।
জামায়াতে নারীদের সাংগঠনিক অবস্থান নারীদের নেতৃত্ব ও সাংগঠনিক অবস্থান প্রসঙ্গে ডা. হাবিবা বলেন, জামায়াতে ইসলামী নারীদের যথাযথ সম্মান ও অধিকার দেয়। দলটির অ্যাডভাইজারি ও এক্সিকিউটিভ কমিটিতে বর্তমানে ৪৩ শতাংশের বেশি নারী প্রতিনিধি রয়েছেন। পাশাপাশি গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত সব পর্যায়ে নারীদের নেতৃত্ব বিকাশ ও মানবিক কার্যক্রমে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নির্বাচনে নারী প্রার্থী না থাকার বিষয়ে তিনি জানান, এটি দলীয় ও সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত। তবে অতীতে তারা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন এবং ভবিষ্যতে নারীদের নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীদের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী একটি আদর্শিক ইসলামী সংগঠন। কোরআনের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘পুরুষরা নারীদের পরিচালক’ এই বিশ্বাস থেকেই তারা মনে করেন, ইসলামী সংগঠনের শীর্ষ নেতৃত্বে নারীরা আসেন না। তবে শীর্ষ পদে নারী থাকলেই নারীর অধিকার নিশ্চিত হয় এমন ধারণার সঙ্গে তারা একমত নন বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, দেশে দীর্ঘদিন নারী প্রধানমন্ত্রী থাকলেও নারীদের প্রতি সহিংসতা কমেনি এবং প্রকৃত অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
ডা. হাবিবা আক্তার চৌধুরী আরও বলেন, নির্বাচন কমিশনাররা আমাদের বক্তব্য গুরুত্বের সঙ্গে শুনেছেন এবং নারীদের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।