প্রকাশ: রোববার, ১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০২ পিএম (ভিজিট : ৮৫)

X
গত ২২ ডিসেম্বর রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরের বণিক পাড়ায় ঘরের বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দুর্বৃত্তদের আগুন দেওয়ার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঢাকা থেকে আসা নাগরিক কমিটির একটি দল।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌসের নেতৃত্বে দলটি গতকাল রোববার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলেছেন। তারা সেখানে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের সাথে কথা বলে ধারনা পেতে চেষ্টা করেন ঘটনার আগে পরের এলাকার সার্বিক পরিস্থিতির।
পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, ‘নির্বাচনের আগে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর এ ধরনের হামলা করার মধ্য দিয়ে আতঙ্ক তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে। যাদের বাড়িঘরে আগুন দেওয়া হয়েছে, তাদের মন থেকে আতংক দুর হয়নি। বলেন ‘আমরা সবাই নির্বাচন এলে প্রার্থীদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কথা বলি। কিন্তু ভোটারদের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে কোনো কথা বলি না।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে এ দেশের সব ভোটার কি নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন? নিরহ যারা আক্রান্ত হয়েছেন, তারা কি নিরাপদে ভোট দিতে পারবেন ? এমন নিশ্চয়তা কোথায় ? তিনি বলেন যেসব পরিবার দুর্বৃত্তদের দেয়া আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের ক্ষয়ক্ষতির জরিপ করতে হবে।
আমরা তাদের জন্য ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি সংখ্যালঘুরা যাতে আতংঙ্কমুক্ত পরিবেশে নিরাপদে নিজেদের বাড়িঘরে বসবাস করতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে আহ্বান জানাই। পরিদর্শক দলে অন্যান্যদের মাঝে ছিলেন ‘নাগরিক উদ্যোগ’–এর প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, কবি হাফিজ রশিদ খান, মানবাধিকারকর্মী দীপায়ন খীসা, বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক–বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা, ব্লাস্ট চট্টগ্রাম ইউনিটের আইনজীবী তাসনিয়া আল সুলতানা, আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসন্ধান কর্মকর্তা তাওহীদ আহমেদ ও পার্বত্য চট্টগ্রাম পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক প্রিয় জ্যোতি চাকমা।
তাদের সাথে ছিলেন রাউজান পৌরসভা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি সদীপ দে, সাধারণ সম্পাদক দীপ্ত চৌধুরী। উল্লেখ্য যে, গত গত ২২ ডিসেম্বর রাউজান পৌরসভার সুলতানপুরের বণিকপাড়ায় বাইরে থেকে দরজা আটকে দিয়ে দুটি ঘরে আগুন দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অগ্নিসংযোগের এ ঘটনার এক দিন পর থানায় মামলা হয়। এরপর আগুন দেওয়ার ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে ৫০ হাজার টাকা পুরস্কার ঘোষণা করে পুলিশ। পরে পুলিশ আগুন দেয়ার ঘটনা তদন্ত করে জড়িতদের খুজে বের করে বিভিন্নস্থান থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।