প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:৫২ এএম (ভিজিট : ৮৭)

X
গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের বিরুদ্ধে অনিয়ম, দুর্নীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের মধ্যে ষড়যন্ত্রমূলক মিথ্যা অভিযোগ এনে বদলির হুমকি দিয়ে ঘুষ আদায়ের গুরুতর অভিযোগও রয়েছে।
গাজীপুর সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের হিসাব রক্ষক মাহমুদা বেগম অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে একটি মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। ওই অভিযোগকে কেন্দ্র করে তাকে নানা ভাবে ভয়ভীতি দেখানো হয় এবং বদলির চেষ্টা চালানো হয়। এক পর্যায়ে তাকে জানানো হয়, তিনি যদি ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন, তাহলে তাকে আর বদলি করা হবে না এবং তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ ও প্রত্যাহার করা হবে।
মাহমুদা বেগম আরও জানান, শুরুতে তিনি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয় এবং চাকরি হারানোর হুমকি দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি প্রথমে বিকাশের মাধ্যমে ২ হাজার টাকা এবং পরে আরও ৩ হাজার টাকা—মোট ৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে বাকি ৪৫ হাজার টাকা গাজীপুর জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের হাতে নগদে প্রদান করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
মাহমুদা বেগমের দাবি, তার কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি জেলা শিক্ষা অফিসের পরিদর্শক আব্দুল মতিন অবগত রয়েছেন। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আল মামুন তালুকদারের বক্তব্য জানতে একাধিক বার যোগা যোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা শিক্ষা অফিসার মামুন তালুকদারের বিরুদ্ধে সরকারি গাড়ি মেরামতের নামে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন একাধিক প্রধান শিক্ষক। এছাড়াও জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষা কেন্দ্র স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য এবং বিদ্যালয় পরিদর্শনে গিয়ে দরকষাকষির মাধ্যমে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ করেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক প্রধান শিক্ষক।
আরও অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গাড়ি ব্যবহার না করলেও শিক্ষা অফিসার নিয়মিত ভাবে জ্বালানি খরচ উত্তোলন করে থাকেন। পাশাপাশি তিনি দিনের বেলায় নিয়মিত অফিসে উপস্থিত না থেকে অধিকাংশ সময় বাইরে থাকেন, তবে সন্ধ্যার পর থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত অফিসে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।