
X
অভিভাবকহীন অসহায় শিশু, এতিম, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাত্র, অটিস্টিক, পথ শিশু, মূক ও বধিরসহ সকল শ্রেণির প্রতিবন্ধী ছাত্রদের পূনর্বাসনে ব্যতিক্রমী সেবামূলক প্রতিষ্ঠান পাবনা সদরের সিংগাস্থ "মানবকল্যাণ ট্রাস্টের উপদেষ্টা সম্মেলন বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে প্রতিষ্ঠানের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়।
মানব কল্যাণ ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আলহাজ্ব আবুল হোসেনের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদ সম্মেলনে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পাবনা প্রেসক্লাবের সভাপতি, দৈনিক যুগান্তর ও চ্যানেল আইয়ের স্টাফ রিপোর্টার আখতারুজ্জামান আখতার।
প্রতিষ্ঠানটির ভাইস চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক আলহাজ্ব ড. আলমগীর হোসেনের পরিচালনায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ ডা. ইফতেখার মাহমুদ, বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. আব্দুল বাতেন মোল্লা, পিটিআইয়ের সাবেক সুপার জালাল উদ্দিন আহমেদ, দাউদ এন্ড কোং সত্ত্বাধিকারী জাহাঙ্গীর হোসেন, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা আবু সালেহ মো: হাসিনুর রহমান ঝন্টু ও মানব কল্যাণ ট্রাস্টের প্রধান শিক্ষক আলহাজ্ব হাফেজ মাও. আব্দুর রশিদ।
উপস্থিত ছিলেন- পাবনা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ ও নির্বাহী সদস্য আরিফ আহমেদ সিদ্দিকীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনায় ছিলেন মানব কল্যাণ ট্রাস্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক ক্বারী মাও. আব্দুল মালেক। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও হামদ নাত পরিবেশন করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা।
উপদেষ্টা সম্মেলনে আসন্ন রমজান মাসে যাকাত, ফিতরাসহ অন্যান্য অনুদান আদায়, ট্রাস্টের ওয়াকফ হিসাবের পরিমান অবহিত, ট্রাস্টের আয় ব্যয় অবহিতকরণ ও মানব কল্যাণ ট্রাস্টের এতিমখানা নির্মাণ কাজের অগ্রগতি ও পরবর্তী কার্যক্রম অবহিত করা হয়।
সিংগা মানব কল্যাণ ট্রাস্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৯৪ সালে এই প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার পর থেকে অভিভাবকহীন অসহায় শিশু, এতিম, দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী, শারীরিক প্রতিবন্ধী ছাত্র, অটিস্টিক, পথ শিশু, মূক ও বধিরসহ সকল শ্রেণির প্রতিবন্ধী ছাত্রদের বিনাপয়সায় পূনর্বাসনে কাজ করছে। এই প্রতিষ্ঠান দেশের ধনি, বিত্তবান মানুষের দান ও অনুদানে পরিচালিত হচ্ছে।
বর্তমানে দেশের ২২ টি জেলার ১৪৮ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে বিনাখরচায়। এর মধ্যে ১৩ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্রেইল পদ্ধতিতে কায়দা পড়ছে, ১৫ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্র ব্রেইল পদ্ধতিতে কোরআন শরীফ পড়ছে, ২৮ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ছাত্র বিভিন্ন স্কুল কলেজে পড়ালেখা করছে, মক্তব ও হফজ শাখায় ৭৫ জন অনাথ এতিম, অসহায় ও দরিদ্র শিশু পড়ছে। শারীরিক প্রতিবন্ধী ১০ জন, হুইল চেয়ার ব্যবহার করছে ২ জন, অটিস্টিক শিশু ৪ জন ও মুখ এবং বধির ১০ জন শিক্ষার্থী আবাসিক সকল সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে। ১৮ জন শিক্ষক কর্মচারী দিয়ে এই প্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনা ব্যয় ৫ লাখ টাকা। যা অনুদান ও দানে পরিচালিত হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক অধ্যাপক আবুল হোসেন বলেন, প্রতিষ্ঠানটি সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে দেশের বিত্তবান ও দানশীল ধর্ণাঢ্য ব্যক্তিদের কাছে দান ও অনুদান প্রত্যাশা করেন।