প্রকাশ: বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫৭ পিএম (ভিজিট : ৭০)

X
কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে ভোট চাওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত ও বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত সাতজন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এর মধ্যে বিএনপির তিন কর্মীকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
আজ বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলার মাশালিয়া বাজারে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
বিএনপির দাবি, জামায়াত শিবিরের অতর্কিত হামলায় তাদের চারজন কর্মী-সমর্থক আহত হয়। এর মধ্যে তিনজনকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। জামায়াতের দাবি, বিএনপির হামলায় তাদের তিন কর্মী-সমর্থক আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আফজাল হোসেনের কর্মী-সমর্থকরা প্রচারণায় গেলে এক ভোটারের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সেই বিরোধ মেটাতে আজ বুধবার সকালে খোকসার মাশালিয়া বাজারে সালিশের আয়োজন করা হয়। সালিশে উভয় পক্ষের মিল হয়ে গেলেও হঠাৎ উভয় পক্ষের কর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিএনপি ও জামায়াতের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ৭জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। এর মধ্যে বিএনপির তিন কর্মীকে খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
জয়ন্তীহাজরা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, এক ভোটারের বাড়িতে ৯নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও স্থানীয় জামায়াত নেতা আবু দাউদসহ জামায়াত শিবিরের তিন কর্মী ভোট চাইতে যান। এসময় সেই ভোটার সরাসরি ধানের শীষে ভোট দেবে বলে জানিয়ে দেন। এসময় সেই ভোটারের সাথে তাদের বাকবিতণ্ডা হয়। আমি রাতে বাজারে গেলে আমাদের কর্মী-সমর্থকরা আমাকে জানায়। আমি সকালে মিটিংয়ের কথা বললে উভয়পক্ষের লোকজন সেই মিটিংয়ে আসে।
তিনি আরও বলেন, উভয়পক্ষের কথা শুনে মিল করে দেওয়া হয় কিন্তু হঠাৎ করেই জামায়াতের কর্মীরা আমাদের উপর লাঠি, হাত কুড়াল, হাতুড়ি নিয়ে অতর্কিত হামলা করেন। এসময় আমাদের কর্মী রিন্টু, তুহিন ও নিজাম উদ্দিন আহত হয়ে খোকসা উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি হয়। আমরা আমাদের নেতাদের জানিয়েছি। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবেন।
অপরদিকে ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আকমল হোসেন জানান, আমাদের লোকজন ভোট চাইতে গেলে এক ভোটারের সাথে একটু ঝামেলা হয়। আজ বুধবার সকালে এর সমাধানের জন্য মিটিংয়ে বসা হলে সব ঠিকঠাক হয়ে যায়। তবে অতর্কিত হামলার বিষয় সঠিক না। মিটিংয়ের শেষে সেই ভোটারের সাথে হাত মেলানোর সময় বিএনপির এক কর্মী এসে আমাদের লোকজনের উপর হামলা করে। সেসময় এই সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই হামলার জন্য বিএনপির লোকজন দায়ী।