
শিবালয়ের আরুয়া ইউনিয়নের অবহেলিত নয়াকান্দী বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে নদীর পাড় পর্যন্ত প্রায় ১ কি.মি. রাস্তা দীর্ঘদিন যাবৎ মেরামত বা সংস্কার না করায় চরম বেহাল দশায় রয়েছে। প্রতিদিন বহু পথচারী, যান চলাচল করলেও রাস্তার বেহাল দশার কারণে তাদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন। এছাড়া, জরুরি প্রয়োজন অথবা মুমূর্ষু রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়া খুবই কঠিন হয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দ্রুত এ রাস্তার সংস্কার এবং নয়াকান্দি বাজার থেকে নদীর পাড় পর্যন্ত পাকাকরণের জোড় দাবি জানিয়েছেন তারা।
জানা গেছে, গুরুত্বপূর্ণ এ সড়কযোগে প্রতিদিন স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, অসুস্থ রোগী ও ব্যবসায়ীসহ সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ যাতায়াত করে থাকে।প্রয়োজনীয় মেরামত বা সংস্কারের অভাবে এ সড়কের নাজুক পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্টদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে। শুষ্ক মওসুমে ধুলা-বালি ও বৃষ্টি হলে কাঁদা-পানিতে নাকাল অবস্থা সৃষ্টি হয়। এলাকায় উৎপাদিত ফসল বিভিন্ন হাট-বাজারে নেয়ার ক্ষেত্রে সীমাহীন দুর্দশায় পড়তে হয়। এছাড়া, মুমুর্ষ রোগী ও বিভিন্ন জরুরি কাজে লোকজন যাতায়াতে দারুণ দুর্ভোগ পোহায়। রাস্তার খানাখন্দ আর বহু গর্ত থাকায় ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এছাড়া, রাস্তার বেহাল দশার কারণে কৃষিনির্ভর এই এলাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করার ক্ষেত্রে মুনাফার বড় একটা অংশ কৃষকের পকেট থেকে বের হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় গ্রামের বাসিন্দা আরুয়া ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আজমত আলী প্রামানিক বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ রাস্তার এমন বেহাল দশায় ভোগান্তির সীমা নেই। রোগী ও জরুরি পণ্য নিয়ে যাওয়া-আসা করাও অনেক কঠিন। নয়াকান্দী গ্রামটি যেন অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে। অতিদ্রুত আমাদের এ রাস্তাটি সংস্কার করা প্রয়োজন।
সরেজমিনে দেখা যায়, এ রাস্তার বিভিন্ন অংশে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাটি দীর্ঘদিন যাবৎ অবহেলায় রয়েছে। কিছু অংশে ইট বিছানো হয়েছে। বাকি অংশ মাটির রাস্তা রয়ে গেছে। মাটির রাস্তা হওয়ায় রিক্সা, মোটরসাইকেল, সাইকেল, ছোট গাড়ি চলাচলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নয়াকান্দি বাজার হতে পদ্মানদীর পাড় পর্যন্ত অবহেলিত জনগোষ্ঠীর চলাচলের বেহাল একমাত্র রাস্তা, যা যুগ-যুগ ধরে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে থাকলেও মেরামতের জন্য সঠিক কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। স্থানীয়রা রাস্তা সংস্কার ও পাঁকাকরণের জন্য জোড় দাবি জানান।
এমতাবস্থায় কর্তৃপক্ষ দৃশ্যমান তেমন ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অবশেষে বাধ্য হয়ে রাস্তার কিছু অংশ নিজেদের অর্থ ও স্বেচ্ছাশ্রমে মেরামত করেন এলাকাবাসী। মহৎ এইকাজে নয়াকান্দি বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম উদ্যোগ গ্রহণ করেন। রাস্তা মেরামত কাজে উপস্থিত থেকে তরুণদের উৎসাহ যুগিয়েছেন বাজার কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান, আবুল হাসেম ডাক্তার, আমজাদ হোসেন মোল্লা, বাজার কমিটির কোষাধ্যক্ষ আরিফুল ইসলাম, আরুয়া ইউনিয়ন সেচ্ছাসেবক দলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক আব্দুর রউফ ঢালী, উপজেলা তাঁতীদলের সহ-সভাপতি লিয়াকত হোসেন মোল্লা, প্রাণী চিকিৎসক ডা. মুহাম্মদ বেলালসহ এলাকার জনগণ।
এ ব্যাপারে উপজেলা প্রকৌশলী মুহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, এ রাস্তাটি পাকাকরনের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে । অতিদ্রুত এ রাস্তার কাজ বাস্তবায়ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ ব্যাপারে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনিষা রানী কর্মকার বলেন, গ্রামবাসীর এই উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। আমি রাস্তার খোঁজখবর নিয়ে, অতিদ্রুত যাতে কাজ বাস্তবায়ন হয় সেই বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।