প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৮৩)

X
বিগত সরকারের করা গোলামি থেকে মুক্তি ও আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠায় জামায়াতে ইসলামী এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের নায়েবে আমীর অধ্যাপক মুজিবুর রহমান।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার ফুটবল মাঠে আসনটির জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেনের নির্বাচনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা জানান তিনি। এর আগে ছাত্র শিবির সহ জামায়াতের বিভিন্ন ইউনিট খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জনসভায় যুক্ত হন।
এময় সাঁথিয়া জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মোখলেছুর রহমানের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন, সাবেক পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের, সাঁথিয়ার দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল গাফফার খান, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাঁথিয়া উপজেলা শাখার প্রধান স্বম্নয়কারী মোঃ বকুল হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির সাঁথিয়া উপজেলা এম্বাসেডর মোঃ মোসলেম উদ্দিনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, আওয়ামীলীগ, বিএনপি ও জাতীয় পার্টি বার বার দেশের ক্ষমতায় এসেছে। কিন্তু তারা ইসলামের আইন প্রতিষ্ঠা করেনি। দেশ পরিচালনার নামে গোলামি করেছে। মানুষের তৈরি মতবাদে দেশ পরিচালনা করেছে। এসব বিষয় আমলে রেখে জামায়াত দুটি কারণে এবারের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। একটি হলো- এই গোলামি থেকে আজাদি প্রতিষ্ঠা। আরেকটি হলো- মানুষের তৈরি মতবাদকে বাতিল করে আল্লাহর আইন প্রতিষ্ঠা করা।
জালেম পালিয়েছে জুলুম পালায়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যারা এদেশে জুলুম করতে পারে আগামী নির্বাচনে তাদের প্রতিহত করতে হবে। জামায়াতের দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে। কারণ জামায়াত নারীদের ৮ ঘন্টার বিপরীতে ৫ ঘন্টা কাজের বিধান করতে চায়। ৫ বছরের শিশু ও ৬০ বছরের বৃদ্ধের জন্য ফ্রি চিকিৎসা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করতে চায়। এছাড়া শ্রমিকরা যেনো মজুরীর পাশাপাশি মালিকের লভ্যাংশের ১০ ভাগ পায় সেই ব্যবস্থা গড়ে তোলা সহ মানবিক ও শান্তির দেশ গড়তে চায়।
তারেক রহমানকে ইঙ্গিত করে মেজর (অব.) মঞ্জুর কাদের বলেন, এক নেতা ইদানীং একটা শব্দ বলেন সেটি হলো 'গুপ্ত'। তিনি জানেন না ইতিহাসে যত বিপ্লব ঘটেছে এগুলো গুপ্ত সংগঠন ছাড়া সম্ভব হয়নি। এই গুপ্ত সংগঠনই ডাকসুতে ভুমিধ্বস বিজয় অর্জন করেছে। বিএনপির কোনো রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নেই। এর আগেও শেখ হাসিনাকে দেশে এনেছে বিএনপি। আবারও তাদের খায়েশ জেগেছে ওই হাসিনাকেই ফিরিয়ে আনার। এদের প্রতিহত করতে হবে। জাতীয়তাবাদ ও ইসলামি শাসন প্রতিষ্ঠায় দাঁড়িপাল্লাকে বিজয়ী করতে হবে।
ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, জামায়াতের প্রয়াত আমীর শহীদ মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন তবে আজ এই মাঠে তাঁর নির্বাচনী জনসভা করতাম। তিনি দেশের প্রধানমন্ত্রী হতেন। তাঁকে হত্যার জবাব দিতে হবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ভোট দিয়ে দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে বিজয়ী করতে হবে। যেনো আমার পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে পারি।
১১ দলীয় জনসভায় আওয়ামীলীগ নেতা ও নাগডেমরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফেজ মোঃ হাফিজুর রহমান প্রায় ১০ নেতাকর্মী নিয়ে জামায়াতে যোগদান করেন।