সাবেক ডিসি-মেয়র ভোটের লড়াইয়ে

স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর

সারাবাংলা

গাজীপুরের শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ সংসদীয় আসন গাজীপুর—১ (কালিয়াকৈর ও সিটির একাংশ)। কালিয়াকৈর উপজেলার ও গাজীপুর সিটির ১ থেকে ১৮

2026-02-06T16:17:00+00:00
2026-02-06T16:17:00+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
সাবেক ডিসি-মেয়র ভোটের লড়াইয়ে
স্টাফ রিপোর্টার, গাজীপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:১৭ পিএম   (ভিজিট : ৭৭)
X

গাজীপুরের শিল্পকারখানা সমৃদ্ধ সংসদীয় আসন গাজীপুর—১ (কালিয়াকৈর ও সিটির একাংশ)। কালিয়াকৈর উপজেলার ও গাজীপুর সিটির ১ থেকে ১৮ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত গাজীপুর-১ আসন। 

এ আসনে ভোটের লড়াইয়ে ৭ প্রার্থীর মধ্যে একজন সাবেক জেলা প্রশাসক শাহ আলম বকশী এবং  কালিয়াকৈর পৌরসভার একাধিক বারের নির্বাচিত মেয়র মোঃ মজিবুর রহমান রয়েছেন। 

সাবেক জেলা প্রশাসক সকল ভেদাভেদ ভুলে ও  এলাকাবাসীর সঙ্গে দূরত্ব কমিয়ে উন্নয়ন কাজ করতে চান। আর সাবেক মেয়র চান এলাকার উন্নয়নে পূর্বের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে গাজীপুর—১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৭,১৬,৪৯২জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩,৫৬,৪৭৫ জন, নারী ভোটার ৩,৬০,০০৫জন, তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার হলো ১২জন। 

এ আসনে মোট প্রার্থী হলোন ৭ জন। যথা— ১) বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী (বিএনপি)— মো. মজিবুর রহমান, ২) বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী— মো. শাহ আলম বকশী, ৩) গণফ্্রন্ট— আতিকুল ইসলাম, ৪) জাতীয় পার্টি—এসএম শফিকুল ইসলাম, ৫)বাংলাদেশ লেবার পার্টি—চৌধুরী ইরাদ আহমদ সিদ্দিকী, ৬)বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল —মার্কসবাদী—তসলিমা আক্তার ও ৭) স্বতন্ত্র প্রার্থী— মো. ইমারত হোসাইন। 

গাজীপুর— ১ আসনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক মেয়র মজিবুর রহমান। তিনি ও তার স্ত্রী দুজনেই কোটিপতি এবং সফল ব্যবসায়ী। রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে এমএসএস পাশ করা মজিবুর রহমান প্রায় দুই দশক ধরে কালিয়াকৈর পৌরসভার প্রাশাসক ও মেয়র ছিলেন। সর্বশেষ মেয়াদেও তিনি কালিয়াকৈর পৌরসভার মেয়র ছিলেন। মো. মজিবুর রহমান বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য। এছাড়া তিনি প্রায় ২০ বছর গাজীপুরের কালিয়াকৈর পৌরসভার নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। 

মজিবুর রহমান বলেছেন, ‘তারুণ্যের প্রথম ভোট ধানের শীষের পক্ষে হলে এলাকার উন্নয়নের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।  নির্বাচিত হলে তারেক রহমান ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়ন ও শহীদ জিয়ার ১৯ দফার আলোকে পরিকল্পিত, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও চাঁদামুক্ত শিল্প—শ্রমিকবান্ধব আধুনিক নগরী গড়াই আমার লক্ষ্য। কর্মপরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে যুবকদের কারিগরি ও প্রযুক্তিনির্ভর প্রশিক্ষণের মাধ্যমে কর্মসংস্থান, নারী অধিকার ও স্বনির্ভরতা নিশ্চিতকরণ, গুণগত শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং চাকরিজীবী ও প্রবাসীদের উন্নয়নে সম্পৃক্ত করা।

মজিবুর রহমান আরো বলেন, ঘরে ঘরে বিশুদ্ধ পানি, উন্নত স্যানিটেশন, ময়লা—আবর্জনা ব্যবস্থাপনা, শতভাগ বিদ্যুৎ—গ্যাস সরবরাহ, হাসপাতাল সেবা উন্নয়ন ও বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম জোরদার করা হবে। পাশাপাশি এতিম, দরিদ্র, বয়স্ক, বিধবা, প্রতিবন্ধী ও পথশিশুদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি। তিনি, তার স্ত্রী, দলীয় নেতা—কর্মী—সমর্থকরা সকলেই এখন ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসমুক্তকরাসহ নানা প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন। 

মজিবুর রহমানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী একই নির্বাচনী এলাকার বাসিন্দা জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী শাহ আলম বকশীও থেমে নেই। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থ বিজ্ঞানে মাস্টার ডিগ্রী করা শাহ আলম বকশী ইতোপূর্বে ২০০৩সাল থেকে ২০০৪ সালের কিছু সময় জামালপুরে এবং ২০০৪—২০০৬ সালে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি ওএসডি সচিব হিসেবে ২০১৭ সালে অবসর গ্রহণ করেন। ছাত্রজীবনে তিনি শিবিরের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। চাকুরিকালে তিনি রাজনীতি থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়লেও চাকুরি থেকে অবসরে গিয়ে তিনি জামায়তের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। জামায়াতের ব্যানারেই প্রার্থী হয়ে এলাকাবসীর উন্নয়ন করতে চান বকশী। এলাকাবাসীকে নিজ দলীয় বিভিন্ন প্রম্নতিশ্রম্নতি দিয়ে সকাল—সন্ধ্যা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এলাকাকে মাদক, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসমুক্তকরাসহ নানা প্রতিশ্রম্নতি দিয়ে ভোট আদায়ের চেষ্টা করছেন। শাহ আলম বকশী বলেন, এ নির্বাচনে তিনি এলাকাবাসীর সঙ্গে বিগত সময়ে থাকা দূরত্ব কমিয়ে এনে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে চান। তাদের সুখে-দুখে কাছাকাছি থেকে এলাকার উন্নয়ন করতে চান। 

 
ভোর থেকে গভীর রাত পযন্ত নির্বাচনী প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থীরা। করছেন মতবিনিময় কিংবা উঠোন বৈঠক। প্রার্থীদের যেন ঘুমাবার সময় নেই। প্রার্থী ছাড়াও তাদের স্ত্রী—সন্তান এবং অনুসারী নারী—পুরুষ কর্মীরাও পায়ে হেঁটে দ্বারে দ্বারে ভোট প্রার্থনা করে চলেছেন। লিফলেট বিতরণ করছেন। এসময় ভোটারদের সঙ্গে তাদের এমন আচরণ করতে দেখা গেছে যেন তারা কতো আপন। অথচ ইতোপূর্বে কখনও এলাকায় তেমন দেখা যায়নি।  

মজিবুর রহমান ভোটারদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। বলছেন, তার পূর্বের নির্বাচনে কাজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়ন করবেন। তথা মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করতে চান।


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার প্রচারনা শুরু হওয়ার পর থেকে অন্যদের মতো প্রতিদিন সকাল থেকে মধ্যরাত পযন্ত  পথসভা, ভোটারদের সঙ্গে হাত মেলানো, চোখে চোখ রেখে কথা বলা। 

গাজীপুরের ভোগড়া এলাকার ভোটার আবুল কাসেম বলেন, তারা এমন একজন প্রার্থীকে ভোট দিতে চান যিনি মানুষের কাছে সহজে পৌঁছান এবং এলাকার বাস্তব সমস্যাগুলো বোঝেন। সাবেক মেয়র মো. মজিবুর রহমানের দীর্ঘদিনের জনপ্রতিনিধিত্বের অভিজ্ঞতা আছে। তাই তিনিই এই এলাকার উন্নয়নে কাজ করতে পারবেন। 

গাজীপুরের ইটাহাটা এলাকার বাসিন্দা ও তরুন ভোটার জাকির হোসেন বলেন, আমরা উন্নয়নের কথা শুনতে চাই না, কাজ দেখতে চাই। যিনি তরুণদের চাকরি ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দিবেন তাকেই ভোট দেব।

বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামের মনোনীত প্রার্থী মো. শাহ আলম বকশী, নির্বাচনে এবার বিএনপি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে সাবেক মেয়র মজিবুর রহমানকে কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মেয়র মো. মজিবুর রহমান বলেন, এই আসন থেকে ইতিপূর্বে বিএনপি জয় পায়নি। কিন্তু আমি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বীতার মাঝেও বারবার মেয়র নির্বাচিত হয়েছি। শিল্প অধ্যাশিত এলাকা হওয়ায় শ্রমিক ভোটারদের প্রতি বেশি নজর দিয়ে প্রচারনা চালাচ্ছেন প্রার্থীরা।

মজিবুর রহমান বলেন, গাজীপুর—১ আসনকে পরিকল্পিত টেকশই ও যুগোপযোগী হিসাবে গড়ে তুলবো। ভোটারদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই আমাদের দলীয় ৩১ তফা বাস্তবায়ন করবো, পাশাপাশি মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত আসন গড়ে তুলবো।

কোনাবাড়ী এলাকার বাসিন্দা সালমা বেগম বলেন,  নারীদের নিরাপত্তা, কাজের সুযোগ আর সন্তানদের ভালো শিক্ষার ব্যবস্থা—এই তিনটা নিশ্চিত করতে পারলে সেই প্রার্থী আমাদের ভোট পাবেন।

এই আসনে এ দুইজন ছাড়াও আরো ৬ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা হলেন, বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের রুহুল আমীন, ইমারত হোসেইন খান, আতিকুল ইসলাম, এসএম শফিকুল ইসলাম, চৌধুরী ইরাদ আহমেদ সিদ্দিকী ও তসলিমা আক্তার। 

এ আসনে মোট ভোটার ৭ লাখ ২০ হাজার ৯৩৭ জন। এরমধ্যে নারী ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ৬৯০ জন, পুরুষ ভোটার ৩ লাখ ৬০ হাজার ২৩৫ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১২ জন। এ আসনে মোট ভোটকেন্দ্র ২৩৭ টি, ভোটকক্ষ ১ হাজার ৩৫৪ টি এবং অস্থায়ী কক্ষ ১২৮ টি।  এই আসনে ৭ জন প্রার্থী মনোনয়ন বৈধ হয়েছে ৷ বিএনপির দলীয় প্রার্থী সাবেক পৌর মেয়র মজিবুর রহমান। 





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy