লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) এর চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ বীর বিক্রম বলেছেন, ১১ দলীয় জোটেই সরকার গঠন করবে। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীকে ভোট দিন। আমি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম একজন। দীর্ঘদিন বিএনপির সাথে ছিলাম। যখনই বুঝতে পারলাম বিএনপি আর বেশিদিন বাঁচবেনা, তাদের চিকিৎসা দরকার। সেদিনই বিএনপি ত্যাগ করেছি। এখন বিএনপির দেশ চালানোর সামর্থ্য নেই। বিএনপি এখন ক্ষমতায় গেলে চাঁদাবাজি করবে, টেন্ডারবাজি করবে, চট্টগ্রাম বন্দর দখল করবে, ব্যাংক লেুট করবে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চট্টগ্রামের আনোয়ারায় ১১দলীয় জোটের আয়োজিত চাতরীস্থ কর্ণফুলী টানেলের মুখের নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দক্ষিণ জেলা জামায়াতে ইসলামীর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক মাওলানা ইসমাঈল হক্কানীর সভাপতিত্বে আনোয়ারা উপজেলা ও কর্ণফুলী উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী আবুল হাসান খোকা ও নুরউদ্দীন জাহাঙ্গীরের যৌথ সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম মহানগরের জামায়াতে ইসলামীর আমীর নজরুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য অধ্যাপক জাফর সাদেক, জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক, নেজামে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরের আমীর মাওলানা জিয়াউল হুসেইন জিয়া, চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার খেলাফত মজলিসের আমীর হাফেজ মাহবুবুর রহমান হানিফ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চট্টগ্রাম দক্ষিন জেলার সভাপতি জুনু মিয়া, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম পশ্চিম জেলা ছাত্র শিবিরের সভাপতি আব্দুর রহিম, খেলাফতে মজলিস আনোয়ারা উপজেলার সভাপতি মাওলানা মুফতি ইমরান ইসলামাবাদীসহ ১১দলীয় জোটের জেলা-উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
কর্নেল অলি আহমদ জনসভায় ১১ দলীয় জোটের বিরুদ্ধে অপপ্রচারকারীদের বিষয়ে তিনি বলেন, অনেকেই বলে ১১ দলীয় জোট ক্ষমতায় গেলে নারীদের স্বাধীনতা হরণ করবে, বিভিন্ন ধর্মালম্বীদের তাদের ধর্ম পালনে বাঁধা দিবে তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, কারও ব্যক্তিগত এবং ধর্মীয় স্বাধীনতায় আমরা হস্তক্ষেপ করবো না। বরং তারাই অন্যের ধর্মে হস্তক্ষেপ করবে যারা নিজেদের ধর্মই ঠিক মত পালন করে না।
এসময় নির্বাচনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত যা করার করে ফেলেন, ১২তারিখ এদেশের জনগণ ব্যালট বিপ্লবের মাধ্যমে আপনাদের ভাতের হোটেল বন্ধ করে দিবে।
সমাবেশে প্রধান বক্তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম-১৩ আসনের ১১দলীয় জোটের প্রার্থী অধ্যাপক মাহমুদুল হাসান চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে আনোয়ারা। কিন্তু সে হিসেবে এখানে উন্নয়ন হয়নি, কারখানা হওয়ার পরও শিক্ষিতরা চাকরি পাইনি, এখানে নারীদের জন্য সরকারি স্কুল-মাদ্রাসা নেই। যুবকদের বিভিন্ন পেশায় প্রশিক্ষিত করে বিদেশ পাঠানোর জন্য কোনো ট্রেনিং সেন্টার নেই। এই আসনে দাঁড়িপাল্লার বিজয় হলে এসব পরিকল্পনার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করা হবে।
সমাবেশে জাতীয় নাগরিক পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জুবাইরুল আলম মানিক বলেন, যারা মুখে সংস্কারের কথা বলে না ভোটের প্রচারণা চালাচ্ছে ৩৬ জুলাইয়ের পর আওয়ামীলীগ কে যেমন জনগণ লাল কার্ড দেখিয়েছে এদেরও ১২তারিখ লালকার্ড দেখাবে।