১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে পবিপ্রবি ক্যাম্পাসে ভোটের গুরুত্ব নিয়ে আলোচনা চলছে। শিক্ষার্থীরা মনে করছেন, এবারের ভোট কেবল ক্ষমতা বদলের বিষয় নয়, এটি নাগরিক দায়িত্ব ও জনআকাঙ্ক্ষার প্রকাশ।
পরিবেশ বিজ্ঞান ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অনুষদের তাহসিনুল ইসলাম বলেন, “তরুণ প্রজন্মের সচেতন সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে পরিবর্তনের পথ। প্রতীক নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে ভোটই হতে পারে আইনের শাসন ও সুশাসনের প্রথম ধাপ। নির্বাচন হোক সম্প্রতির, নিশ্চিত হোক সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা। ভোটের মাধ্যমে জাতির মানসিকতাও প্রকাশ পায় মতভেদ থাকবে, বিদ্বেষ নয়; প্রতিযোগিতা থাকবে, প্রতিহিংসা নয়।”
আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের সাইমা সুলতানা এলীন বলেন, “বহু বছর ধরে বাংলাদেশের আইন ও শাসনব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে। কাগজে সমান আইনের কথা থাকলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষ ও প্রভাবশালীদের জন্য শাসন এক ছিল না। পরবর্তী সরকার যদি রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত আইন প্রয়োগ, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপ এবং মানবাধিকার ও বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করে, তবে আইনের শাসন বাস্তবে প্রতিষ্ঠা পাবে।”
ব্যবসায় প্রশাসন অনুষদের সৌরভ হোসেন বলেন, “ভোট শুধুই অধিকার নয়, এটি নাগরিকের নৈতিক দায়িত্ব। ভোটারদের উচিত প্রতীক নয়, প্রার্থীর যোগ্যতা ও ন্যায়পরায়ণতা বিবেচনা করে ভোট দেওয়া। এতে ক্ষমতা কোনো একটি গোষ্ঠীর হাতে সীমিত হবে না এবং নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য হবে।”
কম্পিউটার সায়েন্স ও প্রকৌশল অনুষদের মেহেরুন্নেছা লাবনী বলেন, “দীর্ঘদিনের শাসনব্যবস্থার ভুল ও অনিশ্চয়তার অভিজ্ঞতা থেকে মানুষ নতুন করে আশা খুঁজছে। নতুন সরকার যেন সুশাসন, ন্যায়বিচার ও নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে রাষ্ট্রকে স্থিতিশীলতার পথে ফেরায়—এটাই জনগণের প্রধান প্রত্যাশা।”
এদিকে, পবিপ্রবি ক্যাম্পাসের চায়ের দোকানগুলোতে শিক্ষার্থীরা নির্বাচন নিয়ে আড্ডা দিচ্ছেন। হুজাইফা আকন্দ সা’দ (এনিমেল সায়েন্স অ্যান্ড ভেটেরিনারি মেডিসিন অনুষদ) বলেন, “এবারের নির্বাচন শিক্ষার্থীদের কাছে গণতন্ত্রে ফেরার সুযোগ হিসেবে ধরা হচ্ছে। সুষ্ঠু ভোট, নিরাপত্তা ও বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের প্রত্যাশাই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।”