
X
সংগৃহীত ছবি
বেইজিং আরোপিত জাতীয় নিরাপত্তা আইনে দোষী সাব্যস্ত হয়ে হংকংয়ের প্রো-ডেমোক্রেসি গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
এই রায়ের ফলে তার জীবনের অবশিষ্ট সময় কারাগারেই কাটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মানবাধিকার সংগঠনগুলো।
সোমবার আদালত ঘোষিত সংক্ষিপ্ত রায়ে জানানো হয়, জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মামলায় দেওয়া এই সাজা তার বিরুদ্ধে পূর্বে দেওয়া প্রতারণা মামলার পাঁচ বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে ধারাবাহিকভাবে কার্যকর হবে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী, নতুন সাজা থেকে ১৮ বছর আগের দণ্ডের সঙ্গে একত্রে কার্যকর হবে।
৭৮ বছর বয়সী জিমি লাই বর্তমানে বন্ধ হয়ে যাওয়া একটি প্রভাবশালী গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি ইতোমধ্যে পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে কারাবন্দি রয়েছেন। গত ডিসেম্বর তাকে বিদেশি শক্তির সঙ্গে যোগসাজশের দুটি অভিযোগ এবং উস্কানিমূলক প্রকাশনার একটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।
শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ
লাইয়ের বয়স ও শারীরিক জটিলতার কারণে মানবাধিকার সংগঠনগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, এই সাজা কার্যত আজীবন কারাদণ্ডে পরিণত হতে পারে। তিনি হৃদস্পন্দনের সমস্যা, উচ্চ রক্তচাপসহ একাধিক জটিল রোগে ভুগছেন বলে জানা গেছে।
সাজার আগে বিভিন্ন পশ্চিমা দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন তার মুক্তির দাবি জানায়। একাধিক আন্তর্জাতিক সাংবাদিক অধিকার সংগঠন এই বিচার প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ বলে আখ্যা দেয় এবং রায়কে হংকংয়ে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য একটি কঠোর বার্তা হিসেবে উল্লেখ করে।
রায় ঘোষণার পর আদালতকক্ষ ত্যাগের সময় জিমি লাইকে গম্ভীরভাবে বের হতে দেখা যায়। দর্শক গ্যালারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
সহ-আসামিদের সাজা
এই মামলায় জিমি লাইয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও ছয়জন সাবেক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক, একজন অধিকারকর্মী ও একজন প্যারালিগালকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। সহ-আসামিরা ছয় বছর তিন মাস থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছর পর্যন্ত সাজা পেয়েছেন।
দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে প্রকাশক, সহযোগী প্রকাশক, সম্পাদক, নির্বাহী সম্পাদক, ইংরেজি সংবাদ বিভাগের সম্পাদক ও সম্পাদকীয় লেখক রয়েছেন।
সরকারের অবস্থান
চীন সরকার এই মামলাকে ঘিরে আন্তর্জাতিক সমালোচনাকে হংকংয়ের বিচারব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করার অপচেষ্টা হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছে। হংকং কর্তৃপক্ষের দাবি, জিমি লাইয়ের মামলার সঙ্গে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা বা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কোনো সম্পর্ক নেই।
২০২০ সালে জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর গ্রেপ্তার হওয়া প্রভাবশালী ব্যক্তিদের মধ্যে জিমি লাই ছিলেন অন্যতম। এক বছরের মধ্যেই সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমটির একাধিক শীর্ষ সাংবাদিক গ্রেপ্তার হন। পুলিশি অভিযান, মামলা ও সম্পদ জব্দের কারণে ২০২১ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যায়। শেষ প্রকাশিত সংস্করণটির বিক্রি ছিল প্রায় এক মিলিয়ন কপি।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
এই রায় ঘিরে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক এক বৈঠকে তিনি চীনের প্রেসিডেন্টের কাছে জিমি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেছিলেন। জিমি লাই একজন ব্রিটিশ নাগরিক।
মার্কিন প্রেসিডেন্টও রায়ের পর উদ্বেগ প্রকাশ করে লাইয়ের মুক্তি বিবেচনার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে হংকংয়ের গণমাধ্যম পরিস্থিতি দিন দিন আরও সংকুচিত হচ্ছে। সাংবাদিক সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, সাংবাদিকরা সংগঠিত হয়রানি, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস ও প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়ছেন। জাতীয় নিরাপত্তা আইন কার্যকর হওয়ার পর গত চার বছরে অন্তত ৯০০ সাংবাদিক চাকরি হারিয়েছেন।