প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৫ পিএম (ভিজিট : ৪২)

X
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান সংশ্লিষ্ট চলমান মামলাগুলোর বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে প্রসিকিউশন। তবে দ্রুততার চেয়ে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য বিচার নিশ্চিত করাকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বিচারপ্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড কঠোরভাবে অনুসরণ করা হবে। কোনোভাবেই তাড়াহুড়ো করে বিচার করা হবে না; বরং স্বচ্ছতা, ন্যায়বিচার এবং আইনি প্রক্রিয়া যথাযথভাবে নিশ্চিত করেই মামলাগুলোর নিষ্পত্তি করা হবে।
চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০২৪ সালের আগস্টে ট্রাইব্যুনাল গঠনের পর এ পর্যন্ত ছয়টি মামলার বিচার সম্পন্ন হয়েছে। আরও দ্রুত বিচার শেষ করা সম্ভব হলেও, তাতে বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এ কারণেই আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ২০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এসব মামলার বিচার আগামী এক বছরের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যে প্রসিকিউশন কাজ করছে। একই সঙ্গে আপিল শুনানির প্রস্তুতিও চলছে।
শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আমিনুল ইসলাম বলেন, তিনি কোথায় বক্তব্য দিচ্ছেন বা দিচ্ছেন না, তা ট্রাইব্যুনালের বিবেচ্য বিষয় নয়। ট্রাইব্যুনালের দায়িত্ব হলো আদালতের আদেশ কার্যকর করতে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া। তাকে ফিরিয়ে আনা সম্ভব না হলে রায় বাস্তবায়নে বিলম্ব হতে পারে।
বিচারপ্রক্রিয়ায় বাছাই করে আসামি করা হচ্ছে এমন অভিযোগও নাকচ করেন তিনি। তার ভাষ্য, তদন্তকারী কর্মকর্তারা স্বাধীনভাবে তদন্ত পরিচালনা করেন এবং প্রসিকিউশন সেই তদন্তে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করে না। তদন্তে কোনো ঘাটতি বা অসঙ্গতি পাওয়া গেলে তা পুনঃতদন্তের জন্য ফেরত পাঠানো হয়। কারও মনে হতে পারে যে ইচ্ছামতো আসামি করা হচ্ছে। তবে বাস্তবে এমনটি হচ্ছে না।
তিনি আরও জানান, সারা দেশে জুলাই-সংশ্লিষ্ট ৫০৯টি ঘটনার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে যেসব ঘটনার তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে, সেগুলো পর্যায়ক্রমে ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।