প্রকাশ: সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৭:৫১ পিএম (ভিজিট : ৪৭৪)

X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যখন ব্যস্ততা তুঙ্গে, ঠিক সেই সময় এক অসহায় নাগরিক মানবিক সহায়তার আশায় উপস্থিত হন জেলা প্রশাসকের দপ্তরে। আর সেখানেই ফুটে ওঠে একজন দায়িত্বশীল প্রশাসকের মানবিক মুখ।
কর্ণফুলী টানেলের পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ কাজে নিয়োজিত সেতু কর্তৃপক্ষের অস্থায়ী গাড়িচালক নুরুজ্জামান মাতুব্বর (বাসিন্দা: শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার জয় নগর সরদার কান্দি) গত ২৪ জানুয়ারি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিজের সেমি-পাকা বসতঘর হারান। আগুনে মুহূর্তেই পুড়ে ছাই হয়ে যায় তার পরিবারের একমাত্র সম্বল।
দরিদ্র নুরুজ্জামানই পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার এক ভাই দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে অসুস্থ। ভাইয়ের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে গিয়ে এমনিতেই আর্থিক সংকটে ছিলেন তিনি। এর মধ্যে ঘরবাড়ি পুড়ে যাওয়ায় পরিবারটি চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়ে। আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছ থেকে প্রত্যাশিত সহায়তা না পেয়ে শেষ আশ্রয় হিসেবে তিনি চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানান।
নির্বাচনী প্রস্তুতির চরম ব্যস্ততার মাঝেও বিষয়টি জানার পর রোববার (৯ ফেব্রুয়ারি) জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা নুরুজ্জামানকে নিজের কক্ষে ডেকে নেন। তিনি শুধু আবেদন শোনেননি, বরং পরিবারের বর্তমান অবস্থা, অগ্নিকাণ্ডের কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন।
সবকিছু পর্যালোচনা করে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে নুরুজ্জামানকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন।
কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আবেগাপ্লুত নুরুজ্জামান বলেন, আমি জীবনে এ রকম মানুষ পাই নাই। ডিসি স্যারের ব্যবহার খুবই ভালো। নির্বাচনের মতো এত বড় কাজে উনি প্রচণ্ড ব্যস্ত, তবুও আমাকে অনেক সময় দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, আমার কাছে মনে হয়, উনার চেয়ে ভালো অফিসার আমি জীবনে পাই নাই। আমার পরিবারের সবার খোঁজখবর নিয়েছেন। একজন ডিসি আমার কথা এত মন দিয়ে শুনবেন—ভাবতেই পারিনি।
নির্বাচনী প্রস্তুতির চাপের মাঝেও একজন অসহায় নাগরিকের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম প্রমাণ করেছেন—দায়িত্বশীল প্রশাসনের মূল শক্তি মানবিকতা। তার এই উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের কষ্ট লাঘব করেনি, বরং সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে।