
X
তরুণ, বৃদ্ধ ও নারী-পুরুষ সবার মাঝে উৎসবের আমেজ, চোখেমুখে আনন্দ। মেঘনার বুক চিড়ে দ্রæত গতিতে এগিয়ে আসছে যাত্রীবাহী লঞ্চ। যাত্রীদের জন্য লঞ্চের ভিতরে, বাইরে ও ছাঁদে কোথাও তিল পরিমান ঠাঁই নেই।
ঘাটে আসার সাথে সাথে যাত্রীদের হৈ-হুল্লোড়। লঞ্চের ভিতরে কারো মুখে ধানের শীষে স্লোগান গান, কারো মুখে দাঁড়িপাল্লা আবার কারো মুখে গরুর গাড়ির স্লোগান। এ চিত্র ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকার।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি ) দুপুরে ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, দুপুর ১টা থেকে দেড় ঘন্টার মধ্যে ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে একে একে তিনটি লঞ্চ এ ঘাটটিতে আসে। তবে ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত আরো ৫টি লঞ্চ ঢাকা থেকে যাত্রী নিয়ে এ ঘাটে এসেছে। প্রতিটি লঞ্চেই ছিলো ধারণ ক্ষমতার দুই থেকে তিনগুন বেশী যাত্রী। সকলেই দীর্ঘ দিন পর ভোট দিতে ঢাকা থেকে ভোলায় এসেছেন। যাত্রা পথে ভোগান্তী হলেও ভোটের কারনে সেই ভোগান্তি যেনো অনেকটা আনন্দে পরিনত হয়েছে।
৫০বছর বয়সী মো. আলা উদ্দিন তালুকদার জানান, তিনি এর আগে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিয়েছিলেন। এর পর রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারনে আর ভোট দিতে আসা হয়নি। এবার দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতে ভোট হচ্ছে তাই ঢাকা থেকে শত কষ্ট উপেক্ষ করে ভোট দিতে এসেছেন। তবে তিনি ভোটের নিরাপত পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের কাছে দাবি করেন।
ঢাকা থেকে ভোলায় আসা মো. আব্বাস জানান, তিনি ঢাকার একটি প্রাইভেট কম্পানিতে চাকরি করেন। দীর্ঘ এক বছর পর শুধু ভোট দেওয়ার জন্য ভোলায় এসেছেন। গত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার হলেও তিনি গত দুইটি নির্বাচনে ভোট দিতে পারেননি। তাই এবার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে ভোলায় এসেছেন।
ঢাকা থেকে আসা লঞ্চের ৫-৭জন তরুন ভোটার জানান, জীবনের প্রথম ভোট দিতে অনেক আগ্রহ নিয়ে ভোট দিতে বাড়িতে এসেছি। পথে পথে অনেক কষ্ট হয়েছে, তবে সেটিকে আনন্দের সাথে উপভোগ করে চলে আসছি। প্রশাসনের কাছে আমাদের একটাই আসা যাতে করে, নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে যেতে পারি। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকার বাঁধার সম্মুখীন যাতে না হই।
লঞ্চের যাত্রী মো. আলাউদ্দিন জানান, জীবিকার তাগিদে তিনি পরিবার নিয়ে ঢাকায় বসবাস করেন। ১২ ফেব্রæয়ারী ভোট দেওয়ার জন্য পরিবার-পরিজন নিয়ে ভোলায় এসেছেন। অনেক দিন পর নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে চান তিনি।
ইলিশা লঞ্চঘাটের ম্যানেজার মো. মনির হোসেন জানান, আজ (মঙ্গলবার) ভোর রাত থেকেই যাত্রী বোঝাই করে ঢাকা থেকে লঞ্চ আসতে থাকে। সকাল ১০টা পর্যন্ত ৫টি লঞ্চ ইলিশা ঘাটে এসেছে। আবার দুপুরে পৌনে ১টা থেকে আবার আসা শুরু করেছে। রাত ৯টা পর্যন্ত আরো প্রায় ৫-৭টি লঞ্চ আসবে এই ঘাটে। প্রতিটি লঞ্চেই ঈদের মতো যাত্রীদের ভিড় ছিলো। ধারণ ক্ষমতার দুই থেকে তিন গুন যাত্রী নিয়ে এসেছে। যাত্রীদের মধ্যেও ছিলো ঈদের আমেজ। সবাই আনন্দ ও উৎসাহ নিয়ে ভোট দিতে এসেছেন।
ভোলা জেলা নির্বাচন অফিসের তথ্য অনুযায়ী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোলার চারটি আসনে মোট ২৯জন প্রার্থী প্রতিদ্ব›িদ্বতা করছেন। এর মধ্যে ভোলা-১ আসনে ৮জন, ভোলা-২ আসনে ৮জন, ভোলা-৩ আসনে ৬জন ও ভোলা-৪ আসনে ৭জন। ভোলা জেলায় মোট ভোটার সংখ্যা ১৬লাখ ৯২ হাজার ৬৮৮জন। এর মধ্যে পুরুষ ৮লাখ ৭৯হাজার ৮৯৭জন, নারী ৮লাখ ১২হাজার ৭৭৫জন ও হিজড়া ১৬জন।
ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান কালের কণ্ঠকে জানান, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষে সকল ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আসন ভিত্তিক ব্যালটবক্স ও অন্যান্য মালামাল স্ব স্ব সহকারি রিটার্নিং কমকর্তাদের নিকট পাঠানো হয়েছে। ১১ ফেব্রæয়ারী কেন্দ্রে কেন্দ্রে নির্বাচনী সরঞ্জাম পাঠানো হবে। এছাড়াও আইনশৃঙ্খলার যে বিষয়গুলো আছে সেগুলো নির্বাচনে নিয়োজিত সকল বাহিনীর সাথে সমন্বয় করে প্লান তৈরী করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৪জন নির্বাচনী ম্যাজিস্ট্রেট ও জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের কর্মে নিয়োজিত রয়েছেন।