সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে কে কী প্রতিশ্রুতি দিলেন?

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) ঘিরে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। দীর্ঘ ১৭ বছর

2026-02-10T20:04:17+00:00
2026-02-10T20:04:17+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনে কে কী প্রতিশ্রুতি দিলেন?
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:০৪ পিএম   (ভিজিট : ৫২৪)
X

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) ঘিরে সাতক্ষীরার চারটি সংসদীয় আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী মাঠ। দীর্ঘ ১৭ বছর পর অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচনের প্রত্যাশায় ভোটারদের মধ্যে যেমন উৎসাহ দেখা যাচ্ছে, তেমনি প্রার্থীদের প্রচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে গ্রামগঞ্জ ও শহর।

জেলায় চারটি আসনে মোট ১৯ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে এবারের নির্বাচন মূলত বিএনপি ও ১১-দলীয় জোটের (জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক দল সমর্থিত) প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ। প্রতিটি আসনেই উন্নয়ন, সুশাসন, কর্মসংস্থান, সংখ্যালঘু নিরাপত্তা ও জলাবদ্ধতা নিরসন প্রধান ইস্যু হয়ে উঠেছে।

সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া)

এই আসনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব ও জামায়াতে ইসলামীর অধ্যাপক মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ।

প্রধান ইস্যু: সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিমুক্ত এলাকা গড়া, পাটকেলঘাটাকে উপজেলা ও তালাকে পৌরসভায় রূপান্তর, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা।


হাবিবুল ইসলাম হাবিব (বিএনপি – ধানের শীষ): 
কলারোয়ায় আধুনিক স্টেডিয়াম ও বাইপাস সড়ক নির্মাণ।

তালাকে পৌরসভা ও পাটকেলঘাটাকে উপজেলা ঘোষণা।

কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’, দরিদ্রদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি নির্মূল, গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা।


অধ্যাপক মুহাম্মদ ইজ্জত উল্লাহ (জামায়াতে ইসলামী – দাঁড়িপাল্লা):

চাঁদাবাজমুক্ত ও নিরাপদ তালা-কলারোয়া।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সড়ক অবকাঠামোর উন্নয়ন।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান নিশ্চিত।


অ্যাডভোকেট ইয়ারুল ইসলাম (বাংলাদেশ কংগ্রেস – ডাব):

সততা ও স্বচ্ছতার রাজনীতি।

সংসদ ও রাজপথে জনগণের পক্ষে সক্রিয় ভূমিকা।

দলীয় আদর্শ অক্ষুণ্ণ রেখে জনগণের প্রতিনিধিত্ব।


সাতক্ষীরা-২ (সদর-দেবহাটা)

এই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন বিএনপির মো. আব্দুর রউফ, জামায়াতের মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, জাতীয় পার্টির আশরাফুজ্জামান আশু, জাসদের অধ্যাপক ইদ্রিস আলী ও ইসলামী আন্দোলনের মুফতি রবিউল ইসলাম।

প্রধান ইস্যু: পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়, সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু, ভোমরা স্থলবন্দর আধুনিকায়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন।

মো. আব্দুর রউফ (বিএনপি):

সাতক্ষীরায় পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়।

সুন্দরবন টেক্সটাইল মিল পুনরায় চালু।

শতভাগ পাকা সড়ক ও জলাবদ্ধতা নিরসন।


মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক (জামায়াতে ইসলামী):

দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত মানবিক রাষ্ট্র।

ভোমরা স্থলবন্দর আধুনিকায়ন ও শ্রমিক অধিকার।

স্থানীয় অর্থনীতির কাঠামোগত পরিবর্তন।


অধ্যাপক ইদ্রিস আলী (জাসদ):

স্বচ্ছ ও দায়বদ্ধ শাসন ব্যবস্থা।

দুর্নীতিবাজদের বয়কট ও নাগরিক অধিকার আদায়।


আশরাফুজ্জামান আশু (জাতীয় পার্টি):

প্রতিটি ঘরকে ‘এমপির ঘর’ হিসেবে দেখার অঙ্গীকার।

প্রতিহিংসামুক্ত রাজনীতি।

পিছিয়ে পড়া এলাকায় উন্নয়ন।


মুফতি রবিউল ইসলাম (ইসলামী আন্দোলন):

ইনসাফভিত্তিক সমাজ ও শোষণমুক্ত রাষ্ট্র।


সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ)

এই আসনে লড়ছেন বিএনপির কাজী আলাউদ্দীন, জামায়াতের মুহাদ্দিস রবিউল বাশার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. শহিদুল আলম।

প্রধান ইস্যু: টেকসই বেড়িবাঁধ, লবণাক্ততা প্রতিরোধ, আশাশুনি পৌরসভা, মৎস্য খাত উন্নয়ন।


ডা. শহিদুল আলম (স্বতন্ত্র – ফুটবল):

মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক ন্যায়বিচার।

সংখ্যালঘু ও নারীদের নিরাপত্তা।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও তরুণ কর্মসংস্থান।


মুহাদ্দিস রবিউল বাশার (জামায়াতে ইসলামী):

আশাশুনি পৌরসভা ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

১০০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স।

রেললাইন সংযোগ ও ভোমরা বন্দর উন্নয়ন।


কাজী আলাউদ্দীন (বিএনপি):

৫৪ বছরের উন্নয়ন বঞ্চনা দূরীকরণ।

বৈষম্যহীন আধুনিক জনপদ গঠন।


এডভোকেট আলিফ হোসেন (জাতীয় পার্টি):

টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ।

সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় অবকাঠামো উন্নয়ন।

নিরাপদ পানি ও পুলিশি হয়রানি বন্ধ।


সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর)

এই উপকূলীয় আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বিএনপির ড. মো. মনিরুজ্জামান ও জামায়াতের সাবেক এমপি গাজী নজরুল ইসলাম।

প্রধান ইস্যু: সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটন, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, সুপেয় পানি, দীর্ঘমেয়াদি বেড়িবাঁধ।


ড. মো. মনিরুজ্জামান (বিএনপি):

সুন্দরবন আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র।

২৫০ শয্যার হাসপাতাল ও কারিগরি বিশ্ববিদ্যালয়।

মিনি এয়ারপোর্ট ও সামুদ্রিক বন্দর।


গাজী নজরুল ইসলাম (জামায়াতে ইসলামী):

চাঁদাবাজ ও দখলবাজমুক্ত সমাজ।

স্বচ্ছভাবে উন্নয়ন বরাদ্দ।

কর্মসংস্থান ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি


জেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাতক্ষীরার চারটি আসনে মোট ভোটার ১৮ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৯ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৯ লাখ ১৭ হাজার ৭৩৯ জন, নারী ৯ লাখ ১৪ হাজার ৮২৭ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১৩ জন। তরুণ ভোটার (১৮–৩৫ বছর) ৬ লাখ ২৮ হাজার ৬০৯ জন।

জেলায় ৬০৯টি ভোটকেন্দ্রে ৩ হাজার ৩৭২টি ভোটকক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। চার স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মাধ্যমে ব্যালট ও ভোটকেন্দ্র সুরক্ষিত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মিজ আফরোজা আখতার।

প্রার্থীরা এখন শেষ মুহূর্তের গণসংযোগে ব্যস্ত। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে সাতক্ষীরার ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব। ভোটারদের প্রত্যাশা, যে প্রার্থী দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা, বেড়িবাঁধ ও কর্মসংস্থান সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে পারবেন, তাকেই তারা বেছে নেবেন।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy