অফিস সহকারীকে সহকারী শিক্ষক দেখিয়ে পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগ

পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি

সারাবাংলা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রিসাইডিং

2026-02-11T10:51:40+00:00
2026-02-11T10:51:40+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
অফিস সহকারীকে সহকারী শিক্ষক দেখিয়ে পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগের অভিযোগ
পীরগাছা (রংপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০:৫১ এএম   (ভিজিট : ১৬৪)
X

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগে অভিজ্ঞ ও যোগ্যদের বাদ দিয়ে নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক, বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মচারী এবং রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

আগামী বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, প্রথম শ্রেণির (৯ম থেকে ৬ষ্ঠ গ্রেড) প্রায় ৩০০ জন শিক্ষক-কর্মকর্তা থাকলেও ৯০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তার মধ্যে ১৫ জনকে দ্বিতীয় শ্রেণি ও বিভিন্ন প্রকল্প থেকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১০ম গ্রেডের কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেনকে চৌধুরাণী উচ্চ বিদ্যালয়, আব্দুস সালামকে মকরমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মকুল চন্দ্র রায়কে তালুক কান্দি হাজি মহসিনিয়া দাখিল মাদরাসা এবং নুরুজ্জামান মিয়াকে চৌধুরাণী ২ নম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা করা হয়েছে।

এছাড়া প্রাণিসম্পদ বিভাগের এলডিডিপি প্রকল্পের তৌহিদুল ইসলামকে পাঠক শিকড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুল আলমকে পারুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং অন্নদানগর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আলমগীর হোসেনকে দুদিয়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

চর রহমত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সুবাস চন্দ্রের বিরুদ্ধে জাল সনদের অভিযোগে তদন্ত চলমান থাকলেও তাকে বালাটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। আওয়ামী লীগ নেতার ছোট ভাই ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা হাবিবুর রহমানকে বিহারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আওয়ামী লীগ নেত্রী জেসমীন বেগমকে বড় দরগা উচ্চ বিদ্যালয়, আওয়ামী লীগ নেতা সেলিম রেজাকে সিদামহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের যক্ষা প্রকল্পের এমটি ল্যাব আফসানা আক্তারকে শরিফ সুন্দর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় এবং প্রাণিসম্পদ বিভাগের এলডিডিপি প্রকল্পের মাজহারুল আল আমিনকে মহিষমুড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন প্রকল্পের রেজওয়ান খাতুন, শাহীনুর ইসলাম ও মোস্তাফিজার রহমান; এলডিডিপি প্রকল্পের এলএফএ ফাসিউল ইসলাম; ক্ষুদ্র কৃষক উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের রেবা আক্তার; রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের কম্পিউটার অপারেটর আনোয়ারুল ইসলাম; কমিউনিটি অর্গানাইজার শ্যামলী বেগম; নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষক পঙ্কজ কুমার রায় ও আব্দুল আখেরকেও পোলিং কর্মকর্তা করা হয়েছে।

বিআরডিবির প্রকল্পকর্মী আনোয়ার হোসেন, আওয়ামী লীগ নেতা লুৎফর রহমান এবং ইটাকুমারী দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী ফারুক আহমেদকে সহকারী শিক্ষক দেখিয়ে পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রশিক্ষণরত ও অসুস্থ শিক্ষকদেরও জোরপূর্বক দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। পূর্ববর্তী নির্বাচনে বিতর্কিত কর্মকর্তাদেরও এবার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগ রয়েছে, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়া দীর্ঘদিন ধরে পীরগাছায় কর্মরত থেকে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন, যারা বিভিন্ন অনিয়মে জড়িত। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগেও ওই সিন্ডিকেট সক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ ওঠে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি দালাল চক্র গড়ে তুলেছেন। তার মাধ্যমে ঘুষ ছাড়া কোনো কাজ হয় না। অফিস সময়েও তাকে পাওয়া যায় না এবং সরাসরি গেলে হয়রানির শিকার হতে হয়। মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টাও ব্যর্থ হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পীরগাছা উপজেলায় ৯০টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এসব কেন্দ্রে ৯০ জন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা, ৫৩৩ জন সহকারী প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ১ হাজার ৬৬ জন পোলিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব পালনে আগ্রহী শিক্ষকদের বাদ দিয়ে অনাগ্রহীদের নিয়োগ দিয়ে পরে নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে দালালের মাধ্যমে ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে একাডেমিক সুপারভাইজার ফারুকুজ্জামান ডাকুয়ার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, “আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করেছি। প্রশিক্ষণরত ও অসুস্থ শিক্ষক নিয়োগের বিষয়ে মাধ্যমিক ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিস দায়ী।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দেবাশীষ বসাক বলেন, “নির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।”





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy