আট প্রার্থীতে উওাপ, ফ্যাক্টর আওয়ামী লীগের ভোটার

মোঃ নূরুল হক কবির, হবিগঞ্জ

সারাবাংলা

হবিগঞ্জের চারটি আসনে ২৫ প্রার্থীর মধ্যে আটজনকে ঘিরে শেষ সময়ের ভোটের হিসাব জমে উঠেছে। এই আটজনের অন্তত চারজন

2026-02-11T14:28:41+00:00
2026-02-11T14:28:41+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
আট প্রার্থীতে উওাপ, ফ্যাক্টর আওয়ামী লীগের ভোটার
মোঃ নূরুল হক কবির, হবিগঞ্জ
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৬৫)
X

হবিগঞ্জের চারটি আসনে ২৫ প্রার্থীর মধ্যে আটজনকে ঘিরে শেষ সময়ের ভোটের হিসাব জমে উঠেছে। এই আটজনের অন্তত চারজন প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের ভোট টানতে তৎপর। 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে এসে প্রার্থীদের আক্রমণাত্মক প্রচারণায় মাঠের, রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশনের অধীন জেলা প্রশাসন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপি মনোনীত রেজা কিবরিয়া ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া; হবিগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির সাখাওয়াত হাসান জীবন ও এগারোদলীয় জোটের আব্দুল বাছিত আজাদ; হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির জি কে গউছ ও এগারোদলীয় জোটের কাজী মহসিন আহমেদ এবং হবিগঞ্জ-৪ আসনে বিএনপির এসএম ফয়সল ও বৃহত্তর সুন্নী জোটের প্রার্থী ইসলামি বক্তা গিয়াস উদ্দিন তাহেরির মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। এই আটজনের বাইয়ে বাকি ১৭ অন প্রার্থী ভোটের আলোচনায় অনেকটাই পিছনে।

আলোচিত প্রার্থীদের মধ্যে শেখ সুজাত মিয়া, ডাঃ সাখাওয়াত হাসান ও গিয়াস উদ্দিন তাহেরি প্রকাশ্য সভা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের প্রতি সহমর্মিতাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। অন্য প্রার্থীরাও প্রকাশ্য ও পরোক্ষভাবে এই ভোটব্যাংক নিজেদের দিকে টানতে তৎপরতা চালাচ্ছেন। 

রেজা-সুজাতের জোয়ার-ভাটায়ঃ
৪ লাখ ৬১ হাজার ২৮৯ ভোটারের হবিগঞ্জ-১ আসনে পাঁচজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই সীমাবদ্ধ রেজা কিবরিয়া ও শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে। নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলার ছয় ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত দিনারপুর পরগনার প্রায় ৮০ হাজার ভোটারকে ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এ অঞ্চলের সাবেক ও বর্তমান অনপ্রতিনিধিদের খেলা একটি বড় অংশের সমর্থন থাকায় রেজা কিবরিয়া কিছুটা এগিয়ে, এমন সারা ধারণা রয়েছে। তার প্রচারণায় স্ত্রী সিমি কিবরিয়ার সক্রিয় ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছে।

অন্যদিকে, জনসমর্থনের প্রতি আস্থা রেখে আত্মবিশ্বাসী শেখ সুজাত মিয়া। তার দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও নবীগঞ্জ-বাহুবলের ভোটাররা প্রত্যাখ্যান করেননি। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। সনাতন  ধর্মাবলম্বী আওয়ামী লীগের ভোটারদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সম্প্রতি এক বক্তব্যে শেখ সুজাত বলেন, ভয় উপেক্ষা করেই ভোটাররা কেন্দ্রে যাবেন এবং তাকেই বিজয়ী করবেন। এ আসনে প্রায় ২৫ হাজার থেকে চা-শ্রমিক ও প্রায় সমপরিমাণ মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের ভোটার রয়েছেন। একই প্রচলিতভাবে এ দুই গোতীর বড় অংশ নৌকার ভোটার হিসেবে পরিচিত। দেন- এসব কেটে টানতে দুই পক্ষই জোর প্রচারণা চালাচ্ছে। নির্বাচনের শেষ সময়ে এসে দুই প্রভাবশালী প্রার্থী ও তাদের সমর্থকদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে মাঠের রাজনীতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। রেজা কিবরিয়া আগে উন্নয়নের নতুন পরিকল্পনার কথা বলছেন, আর শেখ সুজাত মিয়া তার দানে অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের হিসাব তুলে ধরে ভোটারদের কাছে সায় গিয়েছেন। শেষ মুহূর্তে বিশ্লেষকদের চোখে কখনো একজন, কখনো
অন্যজন এগিয়ে।

জীবন-বাছিতের লক্ষ্য দুই সম্প্রদায়ের ভোটঃ
নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, হবিগঞ্জ-২ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৯ জন। বানিয়াচং উপজেলায় মুসলিম ভোটারের 'আধিক্য এবং ধর্মভিত্তিক রাজনীতির প্রভাব তুলনামূলক বেশি। বিপরীতে আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় হিন্দু ভোটারের সংখ্যা বেশি, যাদের ভোট প্রচলিতভাবে আওয়ামী লীগের দিকে ঝুঁকেছিল। তবে এবারের নির্বাচনে এই ভোটের গতিপথ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে। এ আসনে হয় প্রার্থীর মধ্যে বিএনপির সাখাওয়াত হাসান জীবন ও এগারোদলীয় জোটের প্রার্থী আব্দুল বাসেত আজাদ মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় হয়েছেন। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জীবন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সহমর্মিতামূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি বলেন, তাকে ভোট দিলে 'ডেভিল' শব্দের রাজনীতি থাকবে না এবং মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকারদের পক্ষে নিজেই আইনি লড়াইয়ে নামবেন।


ভারমুক্ত জি কে গউছ, আলোচনায় কাজী মহসিনঃ 
হবিগঞ্জ-৩ আসনে বিএনপির জি কে গউছ ও এগারোদলীয় জোটের কাজী মহসিন আহমেদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। ভোট ও গণরাজনীতিতে জি কে গউছের নাম দেশজুড়ে পরিচিত। স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে, তুলনামূলকভাবে অনেকটা চাপমুক্ত নির্বাচন করছেন এই সংগ্রামী বিএনপি নেতা। তবে শেষ সময়ের প্রচারণায় তার বক্তব্যে ভোট কারচুপির শঙ্কা  প্রকাশ এই আসনে নতুন উত্তেজনা যোগ করেছে। গত শনিবার রাতে তিনি বলেন, এক মিনিটের জন্যও যদি ইন্টারনেট বন্ধ হয়, তবে ধরে নিতে হবে ভোটচুরি শুরু হয়েছে। ভোটাররা তখন এমন চিৎকার করবেন, যেন  রাজধানী ঢাকা পর্যন্ত পৌঁছে যায়। এ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মনোনীত স্বচ্ছ ইমেজের প্রর্থী মহিব উদ্দিন আহমেদ সোহেল এবং জাতীয়
পার্টির আব্দুল মুমিন চৌধুরীসহ অন্যান্যরা শেষ সময় পর্যন্ত প্রচারণা চালিয়ে গেছেন।
জেলা সদর, লাখাই ও শায়েস্থগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৩ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ১৪ হাজার ৯১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৯ হাজার ৮২৯, নারী ১ লাখ ৫ হাজার ২৪৯ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ১৩ জন। এ আসনে ১৩৭টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ৭৬৪টি স্থায়ী ৩ ৪২টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ রয়েছে।

ফয়সল-তাহেরী যুদ্ধে ফ্যাক্টর চা-শ্রমিকঃ জেলায় মোট সোয়া লাখ চা-শ্রমিক ভোটারের মধ্যে প্রায় এক লাখের বসবাস চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলায়। একসময় অন্য কোনো প্রতীকের প্রার্থী ভোট চাইতে গেলে শ্রমিকরা বলতেন- 'বাবু নৌকা নিয়ে আসো'। এবারের নির্বাচনে সেই ভোট শিল্পপতি এসএম ফয়সলের ধানের শীষে যাওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এই আসনে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছেন ইসলামিক ফ্রন্টের প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামি বক্তা মোঃ গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। তিনি বিগত সরকারের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনসহ নিরপরাধ ব্যক্তিদের কারাগার থেকে মুক্ত করার প্রতিশ্রুতিসহ নানা আশ্বাস দিয়ে শেষ সময় পর্যন্ত চা-শ্রমিক ও আওয়ামী লীগ ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালিয়েছেন। অন্যদিকে, ২৮টি চা-বাগানের শ্রমিকদের ব্যানারে এসএম ফয়সলের সমর্থনে একাধিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ আসনের বাকি প্রার্থীরাও প্রচারণার শেষ সময় পর্যন্ত সক্রিয় ছিলেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, চা-শ্রমিকদের ভোটে শেষ হাসি হাসবেন এসএম ফয়সল অথবা গিয়াস উদ্দিন তাহেরি। চুনারুঘাট ও মাধবপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত হবিগঞ্জ-৪ আসনে সবচেয়ে বেশি ভোটার। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ৪৫ আর ২৭২ জন। এর মধ্যে পুরুল ২ লাখ ৪০ হাজার ৯০, নারী ২ লাখ ৭১ হাজার ১৮০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ২ জন। এখানে ১৮৩টি স্থায়ী ভোটকেন্দ্র এবং ১ হাজার ১৬টি স্থায়ী ও ৪১টি অস্থায়ী ভোটকক্ষ চূড়ান্ত করা হয়েছে।

কেন্দ্র দখল ও পেশিশক্তি প্রয়োগে জেলা প্রশাসকের হুশিয়ারিঃ

গত রবিবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ের সম্মেলনে রাজনৈতিক দল, প্রতিদ্বনী প্রার্থীর প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে মতবিনিময় করেন হবিগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। তিনি বলেন, "যদি কোনো প্রার্থী বা ব্যক্তি কেন্দ্র দখলের জন্য পেশিশক্তি প্রয়োগের চেষ্টা করেন, তাৎক্ষণিক কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনী রোডম্যাপ তৈরি করেছি, যাতে দ্রুত কেন্দ্রে পৌঁছে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়।"

শেষ পর্যন্ত প্রচারণায় আরও ১৭ঃ

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে থাকা আটজনের বাইরে জেলার চারটি আসনে প্রার্থী রয়েছেন আরও ১৭ জন। শেষ সময় পর্যন্ত তারা প্রচারনায় মাঠে ছিলেন। এই প্রার্থীরা হলেন, হবিগঞ্জ-১ আসনের এগারোদলের মাওলান সিরাজুল ইসলাম, বাসদের কাজী তোফায়েল আহমদ ও ইসলামিক ফ্রন্টের মোহাম্মদ বদরুর রেজা। হবিগঞ্জ-২ আসনে জাপার আব্দুল মোক্তাদির চৌধুরী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মোঃ নোমান আহমদ সাদীক, বাসদের লুকমান আহমদ তালুকদার এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আফছার আহমদ। হবিগঞ্জ-৩ আসনে ইসলামী আন্দোলনের মহির উদ্দিন আহমদ সোহেল, জাপার আব্দুল মুমিন চৌধুরী, সাংস্কৃতিক মুক্তি জোটের মোঃ শাহিনুর রহমান এবং ইসলামী ফ্রন্টের এস এম সরওয়ার হবিগঞ্জ-৪ আসনে খেলাফত মজলিসের আহমেদ আব্দুল কাদের, এবি পার্টির মোকামেন হোসেন, মুসলিম লীগের শাহ মোঃ আল আমিন, বাসদের মোঃ মুজিবুর। রহমান, সাংস্কৃতিক মুক্তিজোটের মোঃ রাশেদুল ইসলাম খোকন, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মোঃ রেজাউল মোস্তফা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সালেহ আহমদ সাজন ও মোঃ মিজানুর রহমান চোধুরী।





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy