চট্টগ্রামে ভোটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য

চট্টগ্রাম ব্যুরো

সারাবাংলা

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে

2026-02-11T18:19:03+00:00
2026-02-11T18:19:03+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
চট্টগ্রামে ভোটের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজার সদস্য
চট্টগ্রাম ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১৯ পিএম   (ভিজিট : ৭৯)
X

অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের জন্য নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকে চট্টগ্রামে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সোমবারের মধ্যেই সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছে গেছে ব্যালট পেপার। এর আগে জেলা নির্বাচন কার্যালয় থেকে ভোটগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য উপকরণও পাঠানো হয়েছিল।

বুধবার ভোটকেন্দ্রে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ব্যালট পেপারসহ সকল উপকরণ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা ও ভোটগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের কাছে বুঝিয়ে দেন।

এদিকে চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ৪০ হাজারের বেশি সদস্য এবার ভোটকেন্দ্র ও ভোটের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন। ৭ ফেব্রুয়ারি শনিবার সন্ধ্যার পর থেকে চট্টগ্রামের সর্বত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা মাঠে নেমেছে।

চট্টগ্রামের ১৬টি আসনের রিটার্নিং কর্মকর্তা তিনজন। চট্টগ্রাম নগর ও সংলগ্ন ৫টি আসনের দায়িত্বে আছেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলার ১০টি আসনের দায়িত্বে জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং চট্টগ্রাম নগরের একটি আসনের দায়িত্বে আছেন আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ বেলায়েত হোসেন চৌধুরী।

মঙ্গলবার সকালেই শেষ হয়েছে প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকদের সকল ধরনের প্রচার-প্রচারণা। আজ বৃহস্পতিবার ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন ও গণভোট। চট্টগ্রামের ১৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ১১৫ প্রার্থী। এদিকে চট্টগ্রামের নির্বাচনী এলাকাসমূহে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য ৬৯ জন এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এবং নির্বাচনী অপরাধসমূহ আমলে নিয়ে সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করার লক্ষে ৩১ জন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এর আগে প্রার্থীদের আচরণবিধি মনিটরিংয়ে প্রতিটি সংসদীয় আসনের জন্য ৪২ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়। সব মিলে চট্টগ্রামে ১৪২ জন জুডিসিয়াল ও এক্সিকিউটিভম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্বে রয়েছেন।

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ভোটগ্রহণের জন্য ৪০ হাজার ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাকে (প্রিসাইডিং, সহকারী প্রিসাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার) প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুুত করা হয়। সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে এবার আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে ৭ দিনের জন্য। ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠে থাকছে। এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, চট্টগ্রামে নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৪০ হাজারের মতো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মাঠে নেমেছে। তারা শনিবার থেকে কাজ শুরু করে দিয়েছে।

১৬ আসনে ১১৫ প্রার্থী চট্টগ্রামের ১৬ আসনে বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি, জাতীয় পার্টি, এলডিপি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, সুপ্রিম পার্টি, ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ, বাংলাদেশ ইসলামি ফ্রন্ট, গণসংহতি আন্দোলন, নাগরিক ঐক্য, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দলের এবং স্বতন্ত্র মিলে এখন ১১৫ জন প্রার্থী ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রত্যেক ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ১৩ থেকে ১৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। ভোটকেন্দ্রের দায়িত্বে অস্ত্রসহ পুলিশ, অস্ত্রসহ আনসার-ভিডিপি সদস্য, লাঠিসহ পুরুষ ও মহিলা আনসার-ভিডিপির সংখ্যা ১০ জন, গ্রাম পুলিশ থাকবে ১ থেকে ২ জন। এছাড়া পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্ট গার্ড থাকবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা পরিপত্র জারি অনুযায়ী, মেট্রোপলিটন এলাকার বাইরে (জেলায়) প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে ২ জন পুলিশ (অস্ত্রসহ), ১ জন আনসার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার, সহকারী সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), অঙ্গীভূত আনসার/ সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ। গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, আনসার ১ জন, সেকশন কমান্ডার (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ এবং গ্রাম পুলিশ ১ থেকে ২ জন লাঠিসহ।

মেট্রোপলিটন এলাকার ভোটকেন্দ্রে পুলিশ ৩ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ১ জন অস্ত্রসহ, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ১ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ। মেট্রোপালিটন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলোতে থাকবে পুলিশ ৪ জন অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার ১ জন (অস্ত্রসহ), প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে প্রিজাইডিং অফিসারের নিরাপত্তার জন্য ১ অস্ত্রসহ আনসার সদস্য, ১ জন অঙ্গীভূত আনসার সদস্য অস্ত্রসহ, অঙ্গীভূত আনসার/সাধারণ আনসার ও ভিডিপি (মহিলা ৪ জন, পুরুষ ৬ জন) মোট ১০ জন লাঠিসহ দায়িত্ব পালন করবেন।

চট্টগ্রামে এবার মোট ভোটার ৬৬ লাখ ৮২ হাজার ৫১৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৪ লাখ ৮৩ হাজার ৮৮৭, নারী ভোটার ৩১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৬০ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৭০ জন। ভোটগ্রহণ হবে ১ হাজার ৯৬৫ কেন্দ্রে, যেখানে ১২ হাজার ৬০১টি ভোটকক্ষ রয়েছে। এরমধ্যে স্থায়ী ভোটকক্ষ ১১ হাজার ৭৪৬টি। অস্থায়ী ভোটকক্ষ ৮৫৫টি। প্রতিটি কেন্দ্রে একজন প্রিসাইডিং কর্মকর্তা দায়িত্বে থাকবেন।

নির্বাচনকেন্দ্রগুলোকে সাধারণ, গুরুত্বপূর্ণ, অতিগুরুত্বপূর্ণ, ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে ভাগ করা হয়েছে।

চট্টগ্রামের ১৬ সংসদীয় আসন অনুযায়ী মোট ভোটার সংখ্যা : চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮২ হাজার ১২১ জন। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯০ জন। চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৫ জন। চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৪৮ হাজার ৫৩৫ জন। চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯১ হাজার ৮৭৩ জন। চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৯৩ জন। 

চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ১৫ হাজার ২২১ জন। চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৫০ হাজার ৫৭ জন। চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৫ হাজার ৬৫০ জন। চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং-পাহাড়তলী-হালিশহর-খুলশী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪৩১ জন। চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৩৬১ জন। চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৩২ জন। 

চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৯ হাজার ১৮৮ জন। চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ০৮ হাজার ৪২৪ জন। চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আংশিক) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭৫ জন। চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৯৭৭ জন।

পোস্টাল ভোট: চট্টগ্রাম-১ আসনে ৬ হাজার ৫৭২ জন। চট্টগ্রাম-২ আসনে ৭ হাজার ৬৮১ জন। চট্টগ্রাম-৩ আসনে ৪ হাজার ৭৮৪ জন। চট্টগ্রাম-৪ আসনে ৫ হাজার ১৩৯ জন। চট্টগ্রাম-৫ আসনে ৬ হাজার ৭৭০ জন। চট্টগ্রাম-৬ আসনে ৩ হাজার ৯৯৮ জন। চট্টগ্রাম-৭ আসনে ৫ হাজার ৮৪৪ জন। চট্টগ্রাম-৮ আসনে ৫ হাজার ৫৯৩ জন। চট্টগ্রাম-৯ আসনে ৩ হাজার ৮২৫ জন। চট্টগ্রাম-১০ আসনে ৬ হাজার ১২৮ জন। চট্টগ্রাম-১১ আসনে ৫ হাজার ৯৪০ জন। চট্টগ্রাম-১২ আসনে ৩ হাজার ১৯৮ জন। চট্টগ্রাম-১৩ আসনে ৩ হাজার ২১১ জন। ৬০১টি। চট্টগ্রাম-১৪ আসনে ৫ হাজার ২৭২ জন। 

সবচেয়ে বেশি পোস্টাল ভোটার হচ্ছে চট্টগ্রাম-১৫ (লোহাগাড়া-সাতকানিয়া) আসনে। এ আসনে পোস্টাল ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ২৭২ জন। চট্টগ্রাম-১৬ আসনে ৬ হাজার ৭১৪ জন। 






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy