প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:২৫ পিএম (ভিজিট : ৬০)

X
গণঅভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর দক্ষিণ এশিয়ার দেশ বাংলাদেশে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভোটকেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা গেছে।
জেন-জিদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর বিশ্বের প্রথম কোনও দেশ হিসেবে বাংলাদেশে আজকের এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রায় সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের বাংলাদেশে স্থিতিশীল শাসনব্যবস্থার জন্য এবারের নির্বাচনে সুনির্দিষ্ট ফলাফল বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, শেখ হাসিনাবিরোধী প্রাণঘাতী আন্দোলনে কয়েক মাসের ব্যাপক অস্থিরতায় বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারক দেশটির গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন শিল্প খাতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
রয়টার্স বলেছে, ৩০ বছরের কম বয়সীদের নেতৃত্বে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর বিশ্বের প্রথম নির্বাচন বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই ধরনের আন্দোলনের মুখে সরকারের পতনের পর আগামী মাসে নেপালেও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশের এই নির্বাচনে প্রধান দুই দলের নেতৃত্বাধীন দুটি জোট প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন দু’টি জোট। যারা একসময় মিত্র হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেছিল। ভোটের আগের বিভিন্ন জনমত জরিপে নির্বাচনে বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।
ঢাকায় ভোটকেন্দ্র খোলার আগেই স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন ৩৯ বছর বয়সী মোহাম্মদ জোবায়ের হোসেন। তিনি সর্বশেষ ২০০৮ সালে ভোট দিয়েছিলেন বলে রয়টার্সকে জানিয়েছেন।
ভোটার সারিতে দাঁড়িয়ে মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘‘আমি বেশ রোমাঞ্চিত। কারণ ১৭ বছর পর আমরা অবাধে ভোট দিচ্ছি। আমাদের ভোট গুরুত্বপূর্ণ এবং অর্থ হবে।’’
বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিনের মিত্র দেশ ভারতে নির্বাসনে রয়েছেন। এর ফলে দিল্লির সঙ্গে ঢাকার সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে এবং বাংলাদেশে চীনের প্রভাব বিস্তারের সুযোগ তৈরি হয়েছে।