চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের ফাটাপাড়া এলাকায় বোমা তৈরির সময় বিকট বিস্ফোরণে দুই কিশোর নিহত ও আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোর রাত প্রায় ৫টার দিকে স্থানীয় মুকুল হোসেনের ছেলে কালামের বাড়িতে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় বাড়ির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং টিনের চালা উড়ে যায়। এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
নিহতদের পরিচয় পুলিশ নিশ্চিত করেছে। তারা হলেন শিবগঞ্জ উপজেলার ঘোড়াপাখিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কথুনিপাড়ার মো. মুনিরের ছেলে জিহাদ (১৭) এবং সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের ধামার মোড় গ্রামের মো. মোয়াজ্জেমের ছেলে আলামিন (১৭)। আহতরা হলেন ফাটাপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলামের ছেলে বজলুর রহমান, জেনারুল ইসলামের ছেলে মিনহাজ এবং রানীহাটি-উপরধুমি এলাকার রফিজুল ইসলামের ছেলে শুভ (২০)। আহতদের প্রথমে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এনএম ওয়াসিম ফিরোজ।
ঘটনার পর রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. শাহজাহান ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তারা জানান, বোমা তৈরির সময় বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের বোমা বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করেছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে স্থানীয়দের একটি অংশের অভিযোগ, এলাকায় আধিপত্য বিস্তার এবং সম্ভাব্য সহিংসতার উদ্দেশ্যে এসব বোমা তৈরি করা হচ্ছিল। তারা দাবি করেন, চরবাগডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান শাহিদ রানা টিপুর অনুসারী কয়েকজন ব্যক্তি এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারেন। স্থানীয়দের অভিযোগে যাদের নাম উঠে এসেছে তারা হলেন—ফাটাপাড়ার দুলাল (কালামের ভাই), গিধনিপাড়ার আব্দুল কাদের, এমদাদুল, মিলন আলী, ইশাহাক আলী, আব্দুর রহিম, চাকপাড়ার নাদিম মেম্বার, কটাপাড়ার আব্দুল মালেক, সাহারুল ইসলাম কালু, সাদরুল ইসলাম, ইসমাইল হোসেন, দুলাল আলী, গোঠাপাড়ার সানাউল্লাহ, চাকপাড়ার মো. রফিক, মিজানুর রহমান মিজান, আতাউর রহমান ফিটু, হাবিবুর রহমান, শওকত আলী, মালবাগডাঙ্গার মুকুল আলী, আলমগীর হোসেন, গোঠাপাড়ার সাকিল, শরিফুল ইসলাম, মিনহাজসহ আরও কয়েকজন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পুলিশ আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কিছু নিশ্চিত করেনি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা রয়েছে এবং পূর্বেও সহিংস ঘটনার অভিযোগ আছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
ঘটনার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা উদ্ধার ও নিরাপত্তা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং কারও সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।