
X
চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও তিন পার্বত্য জেলার ২৩ সংসদীয় আসনের ২১টিতে ভূমিধস বিজয়ের পর এবার আলোচনায় সামনে এসেছে এ অঞ্চল থেকে কারা মন্ত্রী হচ্ছেন?
বিএনপির একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানিয়েছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আসন্ন বিএনপি সরকারে বৃহত্তর চট্টগ্রাম থেকে মন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কক্সবাজার-১ আসন থেকে বিজয়ী সাবেক মন্ত্রী বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার, রাঙ্গামাটি থেকে নির্বাচিত সাংসদ দীপেন চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ তরুণ শিক্ষাবিদ সাঈদ আল নোমান প্রমুখ।
সর্বশেষ ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি সরকার গঠন করলে চট্টগ্রাম থেকে রেকর্ড সংখ্যক মন্ত্রী মনোনীত হয়েছিলেন। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও দুই তৃতীয়াংশ আসনে নিরঙ্কুশ সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালহউদ্দিন আহমদের দীর্ঘ রাজনৈতিক ক্যরিয়ার। দু'জনই বিএনপির নীতিনির্ধারক। গত দেড় বছরে ষড়যন্ত্র ও নানা সংকট মোকাবেলার মাধ্যমে বিএনপিকে সংঘবদ্ধ করে নির্বাচনে ঐতিহাসিক বিজয় পর্যন্ত নিয়ে আসার পেছনে জাতীয়ভাবে যে কয়েকজনের অবদান উল্লেখযোগ্য তাদের মধ্যে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ অন্যতম।
এরপরেই আছেন চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার। চব্বিশের জুলাই আন্দোলনে ৫ আগষ্টের সরকার পতনের কিছুদিন পূর্বে চট্টগ্রাম নগর বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এরশাদ উল্লাহ। দায়িত্ব গ্রহণ করেই আন্দোলন-সংগ্রামের এ কঠিন সময়ের সম্মুখীন হন। এসময় অনেকটা আগোছালো নগর বিএনপিকে ঐক্যবদ্ধ ও সুসংগঠিত করার ক্ষেত্রে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন এই নেতা।
সৎ ও ক্লিন ইমেজের রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এরশাদ উল্লাহর ব্যাপক সুখ্যাতি রয়েছে। তাঁর দক্ষ সাংগঠনিক নেতৃত্বের কারণেই চট্টগ্রাম মহানগরীর সবকটি আসনে বিএনপির বিপুল ভোটে জয়লাভ সম্ভব হয়েছে বলে নেতাকর্মীদের অভিমত। তিনি মন্ত্রী হলে দলের ভাবমূর্তি বাড়বে বলেও অনেকে মনে করেন। অতীতে চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স এবং বিজিএমইএ’র নেতৃত্ব দিয়ে যোগ্যতার প্রমাণ রাখায় ব্যবসায়ী মহলে রয়েছে তাঁর বিশেষ গ্রহণযোগ্যতা।
সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম নেয়া এই নেতা রাজনীতির বাইরে সামাজিক পরিম-লসহ সর্বমহলেও গ্রহণযোগ্য। সর্বশেষ চট্টগ্রামে বিএনপির ১৪ বিজয়ী সাংসদের মধ্যে সর্বোচ্চ এক লাখ ৫২ হার ৯৬৯ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়ে নিজের শক্তিমত্তার পরিচয় দেন। সবমিলে এ নিরহঙ্কার নিবেদিতপ্রাণ নেতার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল।
এদিকে টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রী হতে পারেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার। তিনি এ মুহুর্তে চট্টগ্রামের সিনিয়র বিএনপি নেতাদের অন্যতম। এই পরিচ্ছন্ন রাজনীতিবিদ বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার সাথেও রাজনীতি করেছেন। আওয়ামী লীগবিরোধী আন্দোলন সংগ্রাম অংশ নিয়ে জেল-জুলমও সহ্য করেছেন। এ প্রবীণ নেতার মন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছেন বলে সূত্র জানিয়েছে।
প্রায় প্রতিটি সরকারে পার্বত্যাঞ্চলের আদিবাসী জাতিগোষ্ঠী থেকে একজন মন্ত্রী থাকেন। এবার রাঙ্গামাটি থেকে বিএনপির নির্বাচিত সাংসদ দীপেন চৌধুরীর মন্ত্রী হতে পারেন। তিনি সর্বোচ্চ দুই লাখ ২৮ হাজার ৯৮৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
মন্ত্রী পরিষদে তরুণ তুর্কী যারা পূর্ণাঙ্গ বা প্রতিমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে রয়েছেন তাদের মধ্যে চট্টগ্রামে রয়েছেনÑ কেন্দ্রীয় বিএনপির চট্টগ্রাম বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ও চট্টগ্রাম-১০ আসনের নবনির্বাচিত সাংসদ তরুণ শিক্ষাবিদ সাঈদ আল নোমান।
মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন ইতোমধ্যে সাংগঠনিক বিষয়ে দলের চেয়ারম্যানের সাথে কাজ করে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন। পিতা মীর নাছিরের ইমেজের পাশাপাশি তারুণ্যের উদীয়মান শক্তি হিসেবে তিনি মন্ত্রী পরিষদে স্থান পেতে পারেন।
একইসাথে রয়েছেন পরিচ্ছন্ন তরুণ সাঈদ আল নোমান। যিনি চট্টগ্রাম বিএনপির প্রয়াত অবিসংবাদিত নেতা আবদুল্লাহ আল নোমানের সন্তান। মার্জিত তরুণ শিক্ষা উদ্যোক্তা হিসাবে তাকে সকলেই ভালোবাসেন। ভোটের মাঠেও ন্যূনতম বিতর্কও নেই তার বিরুদ্ধে। সবমিলে ক্লিন ইমেজের তরুণ মন্ত্রীদের তালিকা করতে গেলে সঙ্গত কারণেই চলে আসতে পারে সাঈদ আল নোমান।
তবে পাদপ্রদীপের আলোর বাইরে থাকা চট্টগ্রামের কোনো মেধাবী মুখও যদি মন্ত্রী পরিষদের তালিকায় চলে আসে তাহলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলে মন্তব্য করছেন শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ কামাল উদ্দিন।
তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান একজন পোড় খাওয়া অভিজ্ঞ রাজনৈতিক নেতা। দীর্ঘ সময় ছিলেন ক্ষমতার বাইরে। ছিলেন বিশ্বের আধুনিক শহরে। সেখানকার দেশ পরিচালনা দেখেছেন খুব কাছ থেকে। তাই গতানুগতিকের বাইরে অন্যরকম কিছু হবে। আমি মনে করি মন্ত্রী পরিষদে চট্টগ্রামের যারা স্থান পাবেন, সেখানেও থাকবে চমক।