
X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসনে ব্যাপক অনিয়ম, কারচুপি ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের অভিযোগ তুলে ফলাফল বাতিল ও সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনার দাবি জানিয়েছে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপি।
শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব মো. আবু তাহের তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, নির্বাচনে অস্বাভাবিক ভোট, রেজাল্ট সীটে গরমিল, ভোটগ্রহনের স্থবিরতা, প্রশাসনের কারসাজি, জাল ভোট এবং সুক্ষ্ম কারচুপির মাধ্যমে তাকে পরিকল্পিতভাবে হেরে ফেলা হয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, মেঘশিমুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-১০)-এ বিকাল তিনটার দিকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তা ভোটগ্রহণ বন্ধ করে চলে যান। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে বিকাল ৪টা ২০ মিনিটে সীমিত সময়ের জন্য ভোটগ্রহণ পুনরায় শুরু হয়। একই কেন্দ্রে ভোটারদের পরিচয় যাচাই ছাড়াই ব্যালট পেপার সরবরাহের অভিযোগও তুলেছেন তিনি।
আলমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-৭৯)-এ ভোট গণনা শেষ হওয়ার আগেই বিএনপির এজেন্টকে ফলাফল শিটে স্বাক্ষর দিতে চাপ দেওয়া হয় এবং অস্বীকৃতি জানালে প্রশাসনের মাধ্যমে বাধ্য করা হয়। মেঘশিমুল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র (কেন্দ্র নং-১৪)-এ পরিকল্পিতভাবে ছয়টির পরিবর্তে চারটি বুথ স্থাপন করায় দীর্ঘ লাইন তৈরি হয়, ফলে অনেক নারী ও বয়স্ক ভোটার ভোট দিতে পারেননি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, মেঘশিমুল, দুধী, মনাকান্দা, কাপাসিয়া, কৈলাটী, বেড়াইল ও লেটিরকান্দা এলাকার বিভিন্ন কেন্দ্রে বিএনপি-সমর্থিত ভোটারদের লাঠিচার্জ করে বের করা হয়েছে। জারিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি সোলেমানকে কেন্দ্র থেকে দূরে অবস্থানকালে আটক করে গাড়িতে ঘোরানো হয়েছে, যা ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে ভোটের ব্যবধান ২ হাজার ৫৬৩। তবে বিএনপি প্রার্থীর দাবি, উল্লেখিত অনিয়ম না হলে এই ব্যবধান সহজেই কাটিয়ে তার বিজয় নিশ্চিত ছিল। এছাড়া সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বার্তা শিটের ফলাফলের সঙ্গে রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফলাফলের অসংগতি রয়েছে এবং কিছু কেন্দ্রে মোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ভোটারের সংখ্যাকেও ছাড়িয়ে গেছে।
অবশেষে আবু তাহের তালুকদার বলেন, এসব অনিয়মের কারণে ফলাফল স্থগিত রেখে সব কেন্দ্রের ভোট পুনর্গণনা ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হচ্ছে। পাশাপাশি জনগণের ভোটাধিকারের সুরক্ষায় প্রয়োজন হলে আইনগত ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার, জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি আবদুর রহিম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, সায়েদ আল মামুন শহীদ ফকির ও ইশতিয়াক আহমেদ বাবু। এছাড়া দলের বিভিন্ন স্তরের নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।