প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম (ভিজিট : ৬৩)

X
কঠোর নিরাপত্তা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পাবনা-৪ (আটঘরিয়া-ঈশ্বরদী) আসনের আটঘরিয়া উপজেলার ৪৫ ভোট কেন্দ্রে ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।
এখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭০৭ জন তান্মেধ্যে পুরুষ ভোটার ৭৭ হাজার ১৫১ জন ও মহিলা ভোটার ৭২ হাজার ৫৫৬ জন। কোন কেন্দ্রে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে নাই।
বিভিন্ন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ভোটগ্রহণের দিন সকাল থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি ও তৎপরতা ছিল। প্রত্যেক কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসারের ব্যাপক তৎপরতা ছিল। এছাড়া প্রচুর সংখ্যক সাংবাদিক, পর্যবেক্ষক কেন্দ্র থেকে কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। ফলে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়।
পর্যবেক্ষণকালে দেখা যায় সকাল থেকে আটঘরিয়ার সকল কেন্দ্রে মহিলা ভোটারের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। বেলা বাড়ার সাথে সাথে পুরুষ ভোটার বাড়তে থাকে। সকাল ১০ টার মধ্যে অধিকাংশ কেন্দ্রে ২০% ভোট পড়ে, দুপুর ১২ টার দিকে তা বেড়ে ৩০ থেকে ৪০% ছাড়িয়ে যায়।
পাবনা-৪ আসনে ৭ জন প্রার্থী প্রতিযোগিতায় ছিলেন। তারা হলেন বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, জামায়াতের দাড়িপাল্লার নিয়ে অধ্যাপক আবু তালেব মন্ডল, বিএনপির বিদ্রোহী মোটরসাইকেল নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী জাকারিয়া পিন্টু, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) কাস্তে প্রতীক নিয়ে হাসান আলী, ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা নিয়ে আনোয়ার হোসেন, জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে সাইফুল ইসলাম, নাগরিক ঐক্যের কেটলি প্রতীক নিয়ে শাহনাজ হক। এদের মধ্যে ধানের শীষের প্রার্থী হাবিবুর রহমান হাবিবকে ৫ হাজার ৩৬৭ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে জয় লাভ করেন আবু তালেব মন্ডল । এর অন্যতম কারণ দলের বিদ্রোহী প্রার্থী ও মহিলা ভোটাররা জামায়াতের দিকে ঝোকা।
১২ ফেব্রুয়ারি আধার রাতে চাঁদভা ইউনিয়নের সড়াবারিয়া কেন্দ্রে জামায়াতের লোকজন সিলমেরে জাল ভোট দেওয়ার একটি গুজব ছড়িয়ে পড়লে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও সাংবাদিকরা তৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে গেলে অনুসন্ধান করে দেখা যায় ঘটনাটি সঠিক নয়, গুজব। ভোটের দিন কোথাও কোনো আপীতিকর ঘটনা না ঘটলেও ভোট শেষে দেবোত্তর ইউনিয়নের শ্রীকান্তপুর কেন্দ্রে জামায়াত পরাজিত হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে কিছু কর্মী-সমর্থক একই গ্রামের ধানের শীষের কর্মী আব্দুল লতিফের বাড়িতে হামলা ভাঙচুরে লুটপাটের অভিযোগে বিএনপির পক্ষ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকালে সাংবাদিক সম্মেলন করে এমন তথ্য জানানো হয়। ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীরা অনুসন্ধান চালায়অ সব মিলে আটঘরিয়া উপজেলায় এবারের সংসদ নির্বাচন ছিল ঐতিহাসিকভাবে নিরপেক্ষ, শান্তিপূর্ণ ,উৎসবমুখর ও গ্রহণযোগ্য।