এখনো ঝুলছে নির্বাচনি পোস্টার,অপসারণ কার্যক্রমে ধীরগতি

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চারদিন পরও ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, প্লাস্টিকের ব্যানার-ফেস্টুনে অলিগলি ছেয়ে আছে। অনেক জায়গায় ব্যানার-ফেস্টুন ছিড়ে

2026-02-15T18:10:23+00:00
2026-02-15T18:10:23+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
এখনো ঝুলছে নির্বাচনি পোস্টার,অপসারণ কার্যক্রমে ধীরগতি
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:১০ পিএম   (ভিজিট : ১০৩)
X





ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের চারদিন পরও ঢাকার বিভিন্ন সড়ক, প্লাস্টিকের ব্যানার-ফেস্টুনে অলিগলি ছেয়ে আছে। অনেক জায়গায় ব্যানার-ফেস্টুন ছিড়ে রাস্তায় পড়ে আছে। কিন্তু তা পরিষ্কারে সিটি করপোরেশনের তেমন কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না।

তবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্বাচনের পরদিন থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ শুরু করেছেন তারা। এরইমধ্যে নগরের অধিকাংশ প্রধান সড়ক থেকে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। অনেক সংসদীয় এলাকায় নিজ উদ্যোগ তা অপসারণ শুরু করেছেন বিজয়ী প্রার্থীরা।
চলতি মাসের ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। ওই নির্বাচনে পরিবেশ রক্ষায় কাগজের পোস্টার নিষিদ্ধ করেছিল নির্বাচন কমিশন (ইসি)। কিন্তু ঘটনা ঘটেছে বিপরীত। অধিকাংশ প্রার্থী নিজ প্রচারণায পিভিসি, রেক্সিন, অপচনশীল কাপড় ও অন্য প্লাস্টিকের ব্যানার-ফেস্টুন ব্যবহার করেছেন। এতে পরিবেশের দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতি হয়েছে বলে মনে করেন পরিবেশ নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্টরা।

পরিবেশ রক্ষার বদলে ‘ধ্বংসের আয়োজন’ করেই চললো নির্বাচনি প্রচারণা- শিরোনামে গত ৯ ফেব্রুয়ারি জাগো নিউজে একটি বিশেষ প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।

রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সরেজমিনে যা দেখা গেল , নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধিমালায় (২০২৫) বলা হয়েছিল, অপচনশীল দ্রব্য, যেমন রেক্সিন, পলিথিন ও প্লাস্টিক, তথা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এরূপ কোনো উপাদান দিয়ে তৈরি প্রচারপত্র, ব্যানার, লিফলেট বা হ্যান্ডবিল, ফেস্টুন ও ব্যানার ব্যবহার করা যাবে না। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় অবস্থিত গাছ, বিদ্যুৎ ও টেলিফোনের খুঁটিতে কোনো ধরনের ব্যানার-ফেস্টুন টাঙানো যাবে না।

তবে, রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা-৮, ঢাকা-১২, ঢাকা-১৭ সহ বিভিন্ন আসনের অধিকাংশ প্রার্থীর কাপড়ের পোস্টার, ফেস্টুন গাছ, বিদ্যুতের খুঁটিতে সাঁটানো দেখা গেছে। আবার এসব আসনে শত শত পিভিসি, রেক্সিন বা অন্য প্লাস্টিকের তৈরি ব্যানার-পোস্টারও ঝুলছে। তবে প্রধান সড়কগুলোতে আগের চেয়ে পোস্টার কম দেখা গেছে।

জাতীয় প্রেস ক্লাব, সেগুনবাগিচা, শান্তিনগর, কাকরাইল এলাকাটি ঢাকা-৮ আসনের আওতাধীন। এই আসনে ধানের শীষ প্রতীকে জয়লাভ করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন শাপলা কলির নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর বাইরে আরও বেশ কয়েকজন এই আসনে নির্বাচন করেছেন। কিন্তু রোববার ওই তিনটি এলাকায় গিয়ে শতশত ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলতে দেখা গেছে। তবে প্রধান সড়কগুলোতে ব্যানার-ফেস্টুন তেমন দেখা যায়নি।

শান্তিনগরের বাসিন্দা ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, ওই এলাকায় যেসব ব্যানার-ফেস্টুন সাঁটানো হয়েছিল, তার অধিকাংশই ছিল পিভিসির তৈরি। এখন অনেক স্থানে ব্যানার খুলে সড়ক, ফুটপাতে পড়ে আছে। এগুলো ড্রেন-নালায় গেলে জলাবদ্ধা সৃষ্টি হবে। দ্রুত সময়ের মধ্যে সব ব্যানার অপসারণ করতে হবে।

দক্ষিণ সিটির জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান বলেন, নির্বাচনি ব্যানার অপসারণে কাজ করছে ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ। দ্রুত সময়ের মধ্যে নগর পরিচ্ছন্ন হবে বলে আশা করি।


তেজগাঁও, তেজগাঁও শিল্প এলাকা, হাতিরঝিল ও শেরেবাংলা নগর- এ চারটি থানা এলাকা নিয়ে ঢাকা-১২ সংসদীয় আসনটি গঠিত। এ আসনে এবার মোট প্রার্থী ১৫ জন, যা দেশের ৩০০টি আসনের মধ্যে একক কোনো আসনে প্রার্থীর হিসেবে সবচেয়ে বেশি। ফলে এ আসনে অন্য যে কোনো আসন থেকে ব্যানার-ফেস্টুন বেশি লাগানো হয়েছিল। সোমবারও এ আসনের গুলশান-তেজগাঁও লিংক রোডের বটতলা, সাতরাস্তা, আনিসুল হক সড়ক, কারওয়ান বাজারসহ বিভিন্ন সড়ক-গলিতে ব্যানার-ফেস্টুন দেখা গেছে।

তবে ওই আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে জয়লাভ করেছেন সাইফুল আলম মিলন। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে হাতিরঝিলের মধুবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় নিজ উদ্যোগে ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছেন।

তেজগাঁওয়ের তেজকুনিপাড়ার বাসিন্দা জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলনে, পরিবেশ রক্ষায় পোস্টার নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল ইসি। অথচ ব্যানার-ফেস্টুনে আরও বেশি পরিবেশ দূষণ হয়েছে। এখনো সড়কে মাথার ওপর পিভিসির ব্যানার ঝুলছে।


ঢাকা-১৭ আসনের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করে জয়লাভ করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর স ম খালিদুজ্জামান। এ আসটিতেও ১২ জন সংসদ সদস্য পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তারা প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে বনানী, গুলশান, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেকের প্রায় সব অলি-গলিতে নির্বাচনি ফেস্টুন, ব্যানার টানিয়েছিলেন। এসব ফেস্টুন ও ব্যানারের অধিকাংশই পিভিসির তৈরি। তবে রোববার মহাখালী, কড়াইলসহ অনেক গলিতে ব্যানার ঝুলানো দেখা গেছে। এসব ব্যানার, পোস্টারের অধিকাংশই পিভিসির তৈরি।

জানতে চাইলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকতা মো. জোবায়ের হোসেন  বলেন, নির্বাচনের পরদিন থেকেই ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ শুরু করেছে ডিএনসিসি। এ অপসারণ কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয় থেকেই পরিচালনা করা হচ্ছে। শিগগির শহরের সব অলি-গলি থেকে সব ব্যানার-ফেস্টুন অপসারণ করে নগরের সৌন্দর্য বাড়ানো হবে।






Loading...
Loading...


রাজধানী এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy