প্রকাশ: রোববার, ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:৩৭ পিএম (ভিজিট : ৫৪)

X
২০১৪ সালের এই দিনটি বেনাপোলের ইতিহাসে এক কালো অধ্যায় হয়ে আছে। শিক্ষা সফর শেষে বাড়ি ফেরার পথে চৌগাছার ঝাউতলা এলাকায় মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় বেনাপোল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ৯ জন শিক্ষার্থী। আহত হয় আরও অন্তত ৪৭ জন। আনন্দভ্রমণের হাসি মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় কান্না আর আহাজারিতে।
সন্তানের প্রতীক্ষায় দরজার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নয়জন মায়ের কোল শূন্য হয়ে যায় চিরদিনের জন্য। ছোট ছোট স্বপ্ন, বইভরা ব্যাগ, অসমাপ্ত খাতা—সবকিছু যেন একসাথে থেমে যায় সেই বিকেলে। পুরো সীমান্ত জনপদ বেনাপোল ডুবে যায় গভীর শোকে।
পরদিন বেনাপোল বলফিল্ড ময়দানে অনুষ্ঠিত হয় সর্বকালের বৃহত্তম জানাজা নামাজ। হাজারো মানুষের ঢল নামে সেখানে। ছোট ছোট কফিনের সারি দেখে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি কেউই। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ একত্রিত হয়ে প্রার্থনায় শামিল হন। সেই দিনটি আজও বেনাপোলবাসীর হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটায়।
নিহত শিক্ষার্থীদের পবিত্র স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে বেনাপোলের সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন সৃজন শিখা সংগঠন আয়োজন করে এক শোক র্যালীর। কালো ব্যাজ ধারণ করে, হাতে ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণকারীরা বেনাপোলের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করেন। র্যালী শেষে অনুষ্ঠিত হয় এক সংক্ষিপ্ত আলোচনা ও দোয়া মাহফিল।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের উপদেষ্টা মুস্তাফিজ্জোহা সেলিম।
তিনি আবেগঘন বক্তব্যে বলেন—“এই নয়টি নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু আমাদের শুধু কাঁদায় না, আমাদের জাগিয়ে তোলে। ১৫ ফেব্রুয়ারি আমাদের জন্য শুধুই শোকের দিন নয়, এটি দায়িত্বের দিন—সচেতনতার দিন। আমরা চাই না, ভবিষ্যতে আর কোনো মা-বাবাকে সন্তানের লাশ বুকে নিতে হোক। সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, চালক ও সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত দায়িত্ব রয়েছে। এই শিশুদের স্মৃতি আমাদের ঐক্যবদ্ধ করে, মানবিক হতে শেখায়। আমরা তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি এবং প্রতিজ্ঞা করছি—তাদের স্বপ্ন ও স্মৃতিকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে যাব।”
এসময় উপস্থিত সবার চোখ অশ্রুসিক্ত হয়ে ওঠে। নীরবতা পালন ও বিশেষ মোনাজাতের মাধ্যমে শেষ হয় কর্মসূচি।