
X
বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মীর শাহে আলম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন।
শপথ গ্রহণের খবর ছড়িয়ে পড়তেই শিবগঞ্জসহ পুরো বগুড়াজুড়ে আনন্দের আবহ সৃষ্টি হয়। সমর্থক, নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ মহান আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করে তাকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, তৃণমূল থেকে উঠে আসা একজন সংগঠক ও জনপ্রতিনিধির জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। দীর্ঘদিন মাঠের রাজনীতি ও স্থানীয় প্রশাসনে কাজ করার অভিজ্ঞতাই তাকে এই দায়িত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হচ্ছে।
তৃণমূল রাজনীতি থেকে জাতীয় দায়িত্বে
মীর শাহে আলমের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয় অল্প বয়সেই। মাত্র ২৩ বছর বয়সে ছাত্রদলের নেতৃত্বে থাকাকালে দেশের অন্যতম সর্বকনিষ্ঠ চেয়ারম্যান হিসেবে আটমুল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
পরে শিবগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সাংগঠনিক দক্ষতার মাধ্যমে এলাকায় শক্ত অবস্থান তৈরি করেন।
সাম্প্রতিক জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বিপুল ভোটে জয়লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা
চারদলীয় জোট সরকারের সময়ে তিনি বিআরটিসির পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তার পূর্ব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে তাকে পুনরায় বিআরটিসি এবং বিসিকের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে পরিচিত মুখ
স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব পালনকালে তার উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে রয়েছে:
গ্রামীণ সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভবন নির্মাণ ও সহায়তা
কৃষি ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি জোরদার
প্রশাসনে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ
স্থানীয়দের মতে, সহজ যোগাযোগ, মানুষের পাশে থাকা এবং উন্নয়নমুখী কাজের জন্যই তিনি এলাকায় “মাটি ও মানুষের নেতা” হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন।
দলের দুঃসময়ে সক্রিয় ভূমিকা
দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিকূল সময়ে দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে দাঁড়িয়ে সহযোগিতা করায় তিনি দলীয় মহলে বিশেষভাবে প্রশংসিত হন। সংশ্লিষ্টরা জানান, এসব অবদানের কারণে বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সঙ্গে তার আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
বগুড়াবাসীর প্রত্যাশা
এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পাওয়ায় বগুড়ায় নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, তার উদ্যোগে দ্রুত সময়ের মধ্যে বগুড়ায় একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, পূর্ণাঙ্গ বিমানবন্দর, বিভাগ ঘোষণাসহ দীর্ঘদিনের নানা উন্নয়ন বঞ্চনার অবসান ঘটবে।
তৃণমূল থেকে উঠে এসে জাতীয় নেতৃত্বে জায়গা করে নেওয়া মীর শাহে আলমের এই নতুন দায়িত্বকে বগুড়ার মানুষ ভবিষ্যৎ উন্নয়নের বড় সম্ভাবনা হিসেবেই দেখছেন।