
X
বগুড়া-৬ (সদর) আসন শূন্য হওয়ার পর উপনির্বাচনকে ঘিরে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। শহরের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে সাধারণ মানুষের আড্ডা, সর্বত্র এখন একটাই প্রশ্ন, এ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কাকে মনোনয়ন দেবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ঢাকা-১৭ ও বগুড়া-৬ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে উভয় আসনেই জয়লাভ করেন।
আইন অনুযায়ী একটি আসন রাখার বাধ্যবাধকতায় তিনি ঢাকা-১৭ আসন রেখে বগুড়া-৬ ছেড়ে দেন। এরপর তিনি ঢাকা-১৭ আসনের এমপি হিসেবে শপথ নিয়ে একইদিন বিকেলে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।
পরে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন আসনটি শূন্য ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে। এখন অপেক্ষা শুধু উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা যায়, এই আসনে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী নিয়ে ইতোমধ্যে নানা নাম আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সাবেক সংসদ সদস্য হেলালুজ্জামান তালুকদার লালু এবং বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র একেএম মাহবুবর রহমানের নাম কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে বেশি শোনা যাচ্ছে।
এ ছাড়াও জেলা বিএনপি সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা, সাবেক সভাপতি ভিপি সাইফুল ইসলামসহ আরও বেশ কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে বিগত ফ্যাসিবাদ আমলে যাদের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।
দলীয় নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছেন, দীর্ঘদিন মাঠে সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাকেই প্রার্থী করা হতে পারে।
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশা বলেন, “দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চেয়ারম্যান আসনটি ছেড়েছেন। এখানে আবেগের কোনো বিষয় নেই। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই উপনির্বাচনে অংশ নেবেন। কাকে দেওয়া হবে, সে সিদ্ধান্ত কেন্দ্র থেকেই আসবে।”
অন্যদিকে আসনটিতে নির্বাচন করবে কি না, তা নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির বগুড়া শহর আমির আবিদুর রহমান সোহেল বলেন, “কেন্দ্রীয়ভাবে বিষয়টি পর্যালোচনা চলছে। কেন্দ্র যেভাবে সিদ্ধান্ত দেবে, সেভাবেই আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।”
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, বগুড়া-৬ আসনের উপনির্বাচন শুধু একটি আসনের লড়াই নয়, এটি স্থানীয় রাজনীতির শক্তির ভারসাম্য যাচাইয়ের বড় পরীক্ষা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। কারণ সদর আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এদিকে সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, যেই প্রার্থীই মনোনয়ন পান না কেন, তিনি যেন এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুবিধা ও কর্মসংস্থানের বিষয়গুলোকে অগ্রাধিকার দেন।
সব মিলিয়ে তফসিল ঘোষণার আগেই বগুড়া শহরের রাজনৈতিক অঙ্গন বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এখন সবার দৃষ্টি বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের দিকে, কারণ সেটিই নির্ধারণ করবে এই আলোচিত আসনে দলের প্রার্থী কে হচ্ছেন।
সব মিলিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে মাঠের রাজনীতি আরও সরব হয়ে উঠবে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে তৎপরতা বাড়াবেন, আর দলীয় নেতাকর্মীরাও সক্রিয় হয়ে উঠবেন প্রচার-সংগঠনে।
এদিকে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ মনে করছেন, প্রার্থী নির্বাচনেই নির্ভর করবে নির্বাচনের গতি ও ফলাফল। কারণ দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ব্যক্তির গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক দক্ষতা এবং এলাকার সঙ্গে সম্পৃক্ততাই শেষ পর্যন্ত ভোটের বড় ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়াবে।
ফলে এখন পুরো বগুড়ার রাজনীতিতে একটাই প্রতীক্ষা, কখন আসবে তফসিল এবং তার আগেই বা পরে কার হাতে উঠবে দলীয় মনোনয়নের চিঠি। সেই ঘোষণাই স্পষ্ট করে দেবে, বগুড়া-৬ সদর আসনের উপনির্বাচনের মূল লড়াইয়ে কে হচ্ছেন সবচেয়ে আলোচিত মুখ।