প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:৪৭ পিএম (ভিজিট : ৫৯)

X
চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি কক্ষ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) অসহায় মানুষের জন্য আশার আলোয় ভরে উঠেছে। জীবনের নানা সংকট ও আর্থিক সমস্যায় বিপর্যস্ত মানুষরা একে একে হাজির হয়ে তাদের কষ্টের কথা জানালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং মানবিক সহায়তার হাত বাড়ান।
নগরের হালিশহর থানার বড়পোল এলাকার হাফেজ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন বহু বছর ধরে মসজিদে ইমামতি ও রমজানে খতম তারাবি পড়িয়ে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। একমাত্র ছেলে ও দুই মেয়ে শিক্ষিত করার স্বপ্নও লালন করছিলেন। হঠাৎ মাদ্রাসার চাকরি চলে গেলে সংসারে চরম আর্থিক সংকট দেখা দেয়। গণশুনানিতে এসে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে দেখা করায় তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা পান আবুল হোসাইন। তিনি জানান, “এত ব্যস্ততার মাঝেও স্যার আমার কথা শুনেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করেছেন। মনে হয়েছে, আমরা একা নই।”
লোহাগাড়া থানার উত্তর কলাউজান গ্রামের মো. ইছহাক দুর্ঘটনায় বাম হাত হারিয়ে দেন। মা জটিল রোগে ভুগছেন। গণশুনানিতে এসে জেলা প্রশাসকের সহায়তা পেয়ে তিনি বলেন, “ডিসি স্যার আমার কষ্টের কথা বুঝেছেন। এখন অন্তত মায়ের চিকিৎসা করাতে পারব।”
কোতোয়ালী থানার সীমা দে স্বামীহারা, সন্তান বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। তাঁর আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে সন্তানের চিকিৎসা ও মেয়েদের পড়াশোনার খরচ পূরণ করা সম্ভব হচ্ছিল না। জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তিনি আর্থিক সহায়তা পান। সীমা দে বলেন, “এই সাহায্য আমার সন্তানের চিকিৎসায় নতুন আশা জাগিয়েছে।”
রাউজান উপজেলার পবন বড়ুয়া জটিল লিভার সমস্যায় আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পারায় পরিবার দিশেহারা। গণশুনানিতে জেলা প্রশাসকের মানবিক সহায়তা তাঁকেও স্বস্তি দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, “সরকারি তহবিল সীমিত, কিন্তু মানুষের অসহায় গল্প শুনে চুপ থাকা যায় না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। চাহিদার তুলনায় সহায়তা কম হলেও সরকার যে তাদের পাশে আছে, সেই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই।”
গণশুনানি আজ শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম নয়, বরং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক প্রতিশ্রুতির দিন হিসেবেও স্মরণীয় হয়ে রইল।