
X
মেহেরপুরের গাংনী এলাকায় ভূট্টার বহুমুখী ব্যবহার এবং অর্থনৈতিক দিক থেকে অধিক লাভজনক হওয়ায় ভুট্টা এখন এলাকার প্রধান অর্থকরী ফসল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখোনকার আবহাওয়া ভুট্টা চাষের উপযুগী হওয়ায় ও উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় প্রতি বছর এ জেলায় ভুট্টার আবাদ বাড়ছে ব্যাপক ভাবে। তবে কৃষি প্রণোদনা হিসেবে ভুট্টাবীজ পেলে কৃষকরা ভুট্টা চাষে আরো আগ্রহী হবেন বলে জানিয়েছেন চাষিরা।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানা গেছে,চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ২৫০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ করা হয়েছে। যা গেল বছরের তুলনায় ২০০ হেক্টর বেশি। এর মধ্যে বালাজী, পাইওনিয়ার ভি-৯২, পাইওনিয়ার ৩৩৭৪,কেএমএইচবি- ৫৪৪, বিজয়-৭১, কহিনুর, নবাব,জগৎ বিখ্যাত, জিত, পারফেক্ট, পদ্মাগঙ্গা (জিকে ৩২৫৫) ও বস জাতের ভুট্টা আবাদ করেন এ অঞ্চলের চাষিরা।
শিমুলতলা গ্রামের ভুট্টা চাষি হুসাইন জানান, তামাক ও ধানের আবাদের চেয়ে ভূট্টার আবাদ অনেক লাভজনক। তাই ধানের আবাদ কমিয়ে এ বছর ৭ বিঘা জমিতে ভুট্টা আবাদ করেছেন। ভুট্টা আবাদে বিঘা প্রতি ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা খরচ হলেও কমপক্ষে ২০ হাজার থেকে ২২ হাজার টাকার ভুট্টা বিক্রি করা সম্ভব হয়। তিনি আরো জানান, ভুট্টা চাষে খরচ যেমন কম, অন্যদিকে ফলন এবং লাভও বেশি। এ কারণে চাষিরা ভুট্টার চাষে বেশি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।তবে অন্যান্য ফসলের মতো ভুট্টা চাষিদেরকে প্রণোদনা দিলে এ আবাদ আরো বৃদ্ধি পেতো।
কামারখালি গ্রামের ভুট্টাচাষি ময়নাল জানান, ভুট্টার নানাবিধ ব্যবহার যেমন, ভুট্টার দানা মানুষ খাদ্য হিসেবে, বাণিজ্যিকভাবে মৎস্য চাষ, লেয়ার ও ব্রয়লার মুরগীর ফার্ম ও গরু মোটা-তাজাকরণ প্রকল্পের জন্য ভুট্টার ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। এছাড়া, ভুট্টার শুকনো গাছ ও ভুট্টা মাড়াইয়ের পর মোচা জ্বালানি হিসেবে বাজারে বিক্রি করে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করা যায়।এ জন্য অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন কৃষকরা। তবে ভুট্টার বহুবিধ ব্যবহার ও চাহিদা থাকা স্বত্ত্বেও চাষিরা ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হওয়ায় অনেকেই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন ভুট্টা চাষ থেকে।
বাথানপাড়ার ভুট্টাচাষি বকুল হোসেন জানান, তিনি প্রতিবছরই তামাক আবাদ করেন। ভুট্টার চাহিদা ও ফলন ভালো হওয়ায় এবার তামাক চাষ কমিয়ে ৩ বিঘা ভুট্টা চাষ করছেন। তবে ফসল ঘরে তোলার সময় ন্যায্যমূল্য না পাওয়া নিয়ে তিনি শংকাবোধ করছেন। তাছাড়া কৃষি প্রণোদনা পেলেও অনেকেই অন্যান্য ফসল কমিয়ে ভুট্টা আবাদ করবেন বলেও জানালেন এই চাষি।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র রহমান মুন্না জানান, চলতি বছরে চাষিদেরকে প্রণেঅদনা দেয়া হয়নি। তবে সব সময় কারিগরী প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এতে করে চাষিরা তামাক চাষ কমিয়ে ভুট্টাসহ অন্যান্য ফসলের দিকে ঝুকছেন। বিশেষ করে ভুট্টার বহুমূখী ব্যবহার ও চাহিদা থাকায় চাষিরা ভুট্টা আবাদে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।