
X
পবিত্র রমজান উপলক্ষে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বিভিন্ন বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ছোলা, ডাল, চিনি, ভোজ্যতেল, খেজুর, মুরগির মাংস ও বিভিন্ন সবজিসহ ইফতারসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
উপজেলার মুকসুদপুর পৌরসভা সদর বাজার, উজানি বাজার, বালিয়াকান্দি বাজার, জলিলপাড় বাজার, বোয়ালিয়া বাজার, বল্লারান বাজার, গেড়াখোলা শালিনাবক্স বাজার, পুরাতন মুকসুদপুর বাজার, বনগ্রাম বাজার, মহারাজপুর নতুন বাজার, কৃষ্ণাদিয়া হাট বাজার, খান্দারপাড়া ও দিগনগর বাজার ঘুরে দেখা যায়- রমজানের শুরুতেই বাড়তি চাহিদার কারণে অধিকাংশ পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ৩০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিশেষ করে ছোলা, বুট, মসুর ডাল, মুগ ডাল, চিনি, সয়াবিন তেল, পাম তেল, খেজুর, মুড়ি, চিঁড়া, বেগুন, শসা, টমেটো, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, ব্রয়লার মুরগি, গরুর মাংস ও ডিমের দাম বেড়েছে। বাজারভেদে দামের তারতম্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, পাইকারি বাজারে মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সরাসরি খুচরা বাজারে পড়ছে। পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, সরবরাহে অনিয়মিততা এবং চাহিদা বেড়ে যাওয়াও দামের ঊর্ধ্বগতির পেছনে ভূমিকা রাখছে বলে তাঁদের দাবি।
অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকি জোরদার না থাকায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াচ্ছেন। বিশেষ করে ইফতারসামগ্রীতে এই প্রবণতা বেশি। এক ভ্যানচালক বলেন, “রমজানে আয় তুলনামূলক কমে যায়, কিন্তু নিত্যপণ্যের খরচ বেড়ে যায়। সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।”
উপজেলার সচেতন মহল ও সাধারণ ভোক্তারা বাজার মনিটরিং জোরদার করার দাবি জানিয়েছেন। অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের অভিযোগে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বানও জানিয়েছেন তাঁরা।
বিশ্লেষকদের মতে, রমজানকে কেন্দ্র করে চাহিদা বৃদ্ধি ও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির কারণে প্রতি বছরই বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। তবে নিয়মিত তদারকি, সরবরাহ ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রমজানের সংযম ও সহমর্মিতার চেতনা বজায় রাখতে বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে প্রশাসন ও ব্যবসায়ী উভয় পক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।