
X
স্বাধীনতার ৫৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সাতক্ষীরার বেশিরভাগ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনো নির্মাণ হয়নি শহীদ মিনার।
জেলা শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, সাতক্ষীরা জেলায় মোট ৭৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪৪৪টিতে নেই শহীদ মিনার।
তথ্য অনুযায়ী, জেলায় ৭৪টি কলেজের মধ্যে ৩৫টিতে শহীদ মিনার নেই। ১২টি স্কুল অ্যান্ড কলেজের মধ্যে ১টিতে নেই। ২৮১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৯৮টিতে শহীদ মিনার নেই। ৩৪টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৮টিতে নেই।
কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৯টি সংযুক্ত প্রতিষ্ঠানের ৮টিতে শহীদ মিনার নেই। ৫টি স্বতন্ত্র কারিগরি প্রতিষ্ঠানের ১টিতে নেই। জেলায় ২টি টিটিসি রয়েছে দুটিতেই শহীদ মিনার নেই। ৭টি বিএম কলেজের মধ্যে ৪টিতে নেই।
মাদ্রাসা পর্যায়ে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। ১৬০টি দাখিল মাদ্রাসার মধ্যে ১৩৫টিতে শহীদ মিনার নেই। ২২টি আলীম মাদ্রাসার মধ্যে ১৮টিতে নেই। ২২টি ফাজিল মাদ্রাসার ১৫টিতে নেই। ৩টি কামিল মাদ্রাসার ১টিতে নেই। এছাড়া ১০০টি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার মধ্যে ৯৮টিতেই নেই শহীদ মিনার।
ফলে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে অনেক শিক্ষার্থী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারে না।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষক সমিতির সভাপতি ও নবারুণ উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল মালেক গাজী বলেন, শিক্ষার্থীদের জ্ঞান অর্জনের জন্য প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার গুরুত্বপূর্ণ। আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাই, সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হলে শিক্ষার্থীরা ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে আরও বেশি জানতে পারবে এবং এ বিষয়ে তাদের চর্চা বাড়বে।
সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা অফিসার মো. আলমগীর কবীর, বলেন, প্রতিবছর যখন একুশে ফেব্রুয়ারি আসে তখন অনেক প্রতিষ্ঠান বলে আমরা করে ফেলব, আগামী বছরের মধ্যে করে দেব। কিন্তু এবার এ ধরনের কথা বলার সুযোগ নেই। যেসব প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নেই, তাদেরকে কঠোরভাবে নির্দেশনা দেওয়া হবে। যেভাবেই হোক, নিজ নিজ ক্যাম্পাসে শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভাষা শহিদদের স্মরণে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা জরুরি এবং এ বিষয়ে শিক্ষা অফিস থেকে প্রয়োজনীয় তদারকি করা হবে।
ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দিতে এবং দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করতে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন অভিভাবক ও সচেতন নাগরিকরা।