
X
“কোনো অপরাধকে চুল পরিমাণও ছাড় দেওয়া হবে না, সে যেই হোক” এমন কঠোর বার্তা দিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও চট্টগ্রাম-৫ আসনের সংসদ সদস্য মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় হাটহাজারী উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি ও সমন্বয় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সারাদেশের ন্যায় হাটহাজারীতেও ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম শুরু হচ্ছে। চারটি ক্যাটাগরিতে এই কার্ড প্রদান করা হবে এবং কোনো জাতভেদাভেদ করা হবে না। প্রকৃত প্রাপকদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে মতবিনিময় হয়েছে। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও সরকারি জমি দখলের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বেদখল সরকারি জমি ও খাল পুনরুদ্ধার করে জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষকদের সুবিধা নিশ্চিত করা হবে। যানজট নিরসনেও বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
সড়ক উন্নয়ন বিষয়ে তিনি জানান, চৌধুরীহাট এলাকায় সড়কের কাজ শুরু হয়েছে এবং আগামী ১০ দিনের মধ্যে আরও কয়েকটি সড়কের কাজ শুরু হবে। যেসব সড়কের অনুমোদন বা অর্থায়ন হয়নি, সেগুলোর তালিকা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি হাটহাজারীর সকল মানুষের প্রতিনিধি। দল-মত নির্বিশেষে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
পরিচিতি সভা শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন-এর সভাপতিত্বে মহান শহিদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বাঙালি জাতি কোনো দুর্যোগে দমে যায় না। ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে সম্মিলিত প্রচেষ্টার বিকল্প নেই।
পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল অঞ্চল। প্রাকৃতিক সম্পদ ও সৌন্দর্যের অপার সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামকে বিশ্বমানের ইকোট্যুরিজম স্পটে রূপান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী পাঁচ বছরে যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও মৌলিক সুবিধায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এর আগে মহান একুশের কর্মসূচির অংশ হিসেবে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন প্রতিমন্ত্রী। উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়। শপথ গ্রহণের পর প্রথম সরকারি সফরে নিজ উপজেলায় পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা ফুল দিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান। পরে গ্রামের বাড়িতে পারিবারিক কবরস্থানে জেয়ারত শেষে দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন তিনি।