
X
বিপুল ভোটে বিজয়ের পর বাউফল পাবলিক মাঠে আয়োজিত শুকরিয়া সমাবেশ জনসমুদ্রে পরিণত হয়। রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পটুয়াখালী-২ (বাউফল) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি আপনাদের সেবক। এমপি হয়েছে বাউফলের সাড়ে তিন লাখ মানুষ। আপনারা ব্যক্তি মাসুদকে নয়- ইনসাফ, চাঁদাবাজমুক্ত, মাদকমুক্ত ও দুর্নীতিমুক্ত বাউফল গড়ার পক্ষে ভোট দিয়েছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ব্যক্তি মাসুদকে পরাজিত করা যেতে পারে, কিন্তু বাউফলবাসীকে পরাজিত করা সম্ভব নয়। কোনো ষড়যন্ত্রই আর আপনাদের বিজয় ছিনিয়ে নিতে পারবে না।”
উপজেলা আমির মাওলানা মো. ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পটুয়াখালী জেলা আমির অ্যাডভোকেট নাজমুল হাসান, জেলা সেক্রেটারি শহিদুল্লাহ আল কায়সারী, সাবেক জেলা আমির ও গলাচিপা-দশমিনা আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী অধ্যাপক শাহ আলম, খেলাফত মজলিসের মনোনীত প্রার্থী আইয়ুব বিন মুসা, নির্বাচন পরিচালক আতিকুর রহমান নজরুল এবং প্রধান এজেন্ট অ্যাডভোকেট মুনতাসির মুজাহিদ প্রমুখ।
এসময় উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সুধীজন ও প্রিন্ট-ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যকে বিভিন্ন সংগঠন, সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
বাউফলবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এমপি মাসুদ বলেন, “অনেকে আমার জন্য দোয়া করেছেন, রোজা রেখেছেন, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন— তবুও বিজয় ছিনিয়ে এনেছেন। আল্লাহ আমাদের নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে রেখেছেন।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিভিন্ন ঘটনাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রচার করা হচ্ছে। তবে জনগণ এসব অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবে না বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “সঠিক তথ্য তুলে ধরুন। নইলে সাংবাদিকতা ছেড়ে রাজনীতির মঞ্চে চলে আসুন।”
ইশতেহারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান, ৬০ দিনের মধ্যে মাদক এবং ৯০ দিনের মধ্যে দুর্নীতি নির্মূলে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে। ইতোমধ্যে পুলিশ ও উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় সভা হয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, “সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে চাঁদাবাজি, মাদক ও দুর্নীতি ঢুকে পড়েছে। এগুলো নির্মূল করতে সময় লাগবে।”
সমাবেশ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।