
X
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে গত কয়েকদিন ধরে চলমান তীব্র গ্যাস সংকটে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে শিল্প-কলকারখানা, সিএনজি স্টেশন ও আবাসিক গ্রাহকরা। গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় বহু শিল্প-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, কোথাও কোথাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠান। এতে করে শ্রমিক ছাঁটাই শুরু হওয়ায় বাড়ছে বেকারত্বের শঙ্কা।
রূপগঞ্জ একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চল। উপজেলার যাত্রামুড়া, বরাব, বরপা, ভুলতা, আড়িয়াবো, কর্ণগোপ, গোলাকান্দাইল, মুড়াপাড়া, কাঞ্চন, হাটাবো, সাওঘাট, কাতরারচক, ডহরগাঁও, পাড়াগাঁও, বানিয়াদি এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে প্রায় দুই হাজার ছোট-বড় শিল্প-কারখানা রয়েছে। এসব কারখানায় তৈরি হচ্ছে প্যান্ট, শার্ট, গেঞ্জি, থ্রিপিস, চাদর, লুঙ্গি, প্রিন্ট কাপড়সহ নানা ধরনের পণ্য। রয়েছে নিটিং, ডাইং ও ফিনিশিং কারখানাও।
অনেক শিল্প-কারখানায় গ্যাসচালিত জেনারেটরের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। কিন্তু কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ মারাত্মকভাবে কমে যাওয়ায় জেনারেটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে শতভাগ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিল্প মালিকদের। কেউ কেউ তেলচালিত জেনারেটরে কারখানা চালানোর চেষ্টা করলেও এতে উৎপাদন খরচ প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে। তবুও কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। ইতোমধ্যে কয়েকটি কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে।
এদিকে গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় অনেক সময় সিএনজি পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালকরা। তারা জানান, বাধ্য হয়ে চারগুণ ব্যয় দিয়ে তেল ব্যবহার করে গাড়ি চালাতে হচ্ছে, ফলে প্রতিদিন লোকসান গুনতে হচ্ছে।
গ্যাস সংকটে বিপর্যস্ত আবাসিক এলাকাগুলোর চিত্রও একই। রান্নার গ্যাস না পেয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার কিনে ব্যবহার করছেন। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো আর্থিকভাবে মারাত্মক চাপে পড়েছে।
শিল্প মালিক, শ্রমিক, যানবাহন চালক ও সিএনজি স্টেশন সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা প্রকাশ করে জানান, গ্যাস সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে শিল্প উৎপাদন অর্ধেকে নেমে আসবে এবং ব্যাপক শ্রমিক বেকার হয়ে পড়বে। দ্রুত গ্যাস সংকট নিরসনে সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেছেন তারা।
এ বিষয়ে কথা বলতে রূপগঞ্জ উপজেলার রূপসী এলাকায় অবস্থিত তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এর রূপগঞ্জ আঞ্চলিক বিপণন বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি প্রথমে কথা বলতে রাজি হননি। পরে তিনি জানান, বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজের কারণে মেরামত কাজ চলমান রয়েছে। এ কারণে ডিআরএস থেকে গ্যাসের চাপ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। মেরামত কাজ শেষ হলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।