প্রকাশ: রোববার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৬:৩১ পিএম (ভিজিট : ৫৫)

X
আজমিরীগঞ্জে স্ত্রীর পরকিয়া ও দাম্পত্য কলহ সহ্য করতে না পেরে নাইম (২২) নামে এক যুবক কীটনাশক পান করে আত্মহত্যা করেছেন হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পুলিশ মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে ময়নাতদন্তের জন্য হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে।
নিহত নাইম আজমিরীগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের তুলা মিয়ার পুত্র।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় এক বছর আগে সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ধল গ্রামের গোলাপ মিয়ার কন্যা চম্পার সঙ্গে পারিবারিকভাবে নাইমের বিয়ে হয়।
তবে বিয়ের পরও চম্পার সঙ্গে তার খালাতো ভাইয়ের পরকিয়া চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। শুধু তাই নয়, বিয়ের দাবিতে ওই খালাতো ভাইয়ের বাড়িতে চম্পা অবস্থান নিয়েছিলেন বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
এসব ঘটনায় নাইম দীর্ঘদিন ধরে চরম মানসিক যন্ত্রণায় ভুগছিলেন। স্ত্রীর পরকিয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই তীব্র ঝগড়া ও পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা করা হলেও তা ব্যর্থ হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গত শনিবার সন্ধ্যায় স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ফের ঝগড়ার একপর্যায়ে নাইম বাড়ি থেকে বের হয়ে কালনী-কুশিয়ারা নদীর তীরসংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় যান। সেখানে রাতের কোনো এক সময় তিনি কীটনাশক পান করেন। বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে তিনি হাওরে ছটফট করতে থাকেন।
পরদিন সকালে হাওরে গরু চরাতে যাওয়া এক নারী নাইমকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করলে স্থানীয়রা ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে আজমিরীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
আজমিরীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আকবর হোসেন বলেন, স্ত্রীর সাথে ঝগড়া করে সে কিঠনাশক পানে আত্মহত্যা করেছে। ময়না তদন্তের জন্য মরদেহ হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে প্রেরন করা হয়েছে। এবিষয়ে একটি অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে।