
X
প্রান্তিক কৃষকদের পরিশ্রম, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় সরিষা আবাদে আবারও চমক দেখিয়েছে হাটহাজারী উপজেলা। চট্টগ্রাম জেলার মধ্যে সরিষা চাষে শীর্ষস্থান দখল করেছে এ উপজেলা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে জেলায় মোট সরিষা আবাদ হয়েছে ৪ হাজার ৫৯৯ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫০৮ হেক্টর কম। এর মধ্যে হাটহাজারীতে আবাদ হয়েছে ৯২০ হেক্টর জমিতে, যা জেলায় সর্বোচ্চ। ৭১০ হেক্টর আবাদ নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে রাউজান এবং ৬৬৫ হেক্টর নিয়ে তৃতীয় স্থানে আছে মিরসরাই।
৪৩৬ হেক্টর আবাদ করে চতুর্থ স্থানে রয়েছে ফটিকছড়ি এবং ৩৪৮ হেক্টর নিয়ে পঞ্চম স্থানে আছে রাঙ্গুনিয়া। তবে ফটিকছড়ি ও রাঙ্গুনিয়া যথাক্রমে ১ ও ২ হেক্টর বেশি আবাদ করে লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছে, যা শীর্ষে থাকা হাটহাজারীসহ অন্য কোনো উপজেলা পারেনি।
উত্তর চট্টগ্রামের উপজেলাগুলো আশানুরূপ ফলাফল অর্জন করলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী, পটিয়া, কর্ণফূলি, আনোয়ারা, চন্দনাইশ, সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও বাঁশখালী উপজেলায় আবাদ তুলনামূলকভাবে কম। এছাড়া সন্দ্বীপ উপজেলায় আবাদ হয়েছে ১২০ হেক্টর জমিতে। মহানগরের পাঁচলাইশ এলাকায় ১ হেক্টর আবাদ হলেও ডবলমুরিং ও পতেঙ্গা এলাকায় আবাদ হয়নি।
হাটহাজারীতে প্রথমে ৯৫০ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও পরে তা বাড়িয়ে ৯৮৪ হেক্টর করা হয়। চূড়ান্তভাবে আবাদ হয়েছে ৯২০ হেক্টর জমিতে। আমন ধান কাটার পরপরই চাষিরা প্রতি বছরের মতো সরিষা চাষে নেমে পড়েন। অনেকেই চাষ ছাড়াই জমিতে সরিষা বীজ ছিটিয়ে দেন। কেউ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রণোদনা, কেউ উপজেলা পরিষদের সহায়তা, আবার কেউ নিজস্ব সংরক্ষিত বীজ ব্যবহার করেন।
এ বছর হাটহাজারীতে ৮৫০ জন প্রান্তিক কৃষককে সরকারি-বেসরকারিভাবে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ইউনিয়নভিত্তিক আবাদ চিত্র হলো— ফরহাদাবাদে ১৮৫ হেক্টর, ধলইয়ে ১৫৪, মির্জাপুরে ২৪০, গুমানমর্দ্দনে ৩৮, নাঙ্গলমোড়ায় ২৮, ছিপাতলীতে ৩৭, পৌরসভায় ৪৫, মেখলে ২৮, গড়দুয়ারায় ২৩, উত্তর মাদার্শায় ১৭, ফতেপুরে ৬৪, চিকনদন্ডীতে ২২, দক্ষিণ মাদার্শায় ২০, শিকারপুরে ১৪, বুড়িশ্চরে ৭ এবং চসিক দক্ষিণ পাহাড়তলীতে ২৮ হেক্টর।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মুমিন বলেন, উপজেলা প্রশাসন সবসময় কৃষকদের পাশে আছে এবং থাকবে। ইতোমধ্যে সেচ সুবিধা নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, হাটহাজারীর এ সাফল্য জেলা ছাড়িয়ে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়বে।
কৃষি কর্মকর্তা মো. মেজবাহ উদ্দিন জানান, কয়েক বছর ধরেই হাটহাজারী তালিকায় ভালো অবস্থানে রয়েছে। ২০২৩ সালেও উপজেলা শীর্ষে ছিল। প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও গত বছর তৃতীয় অবস্থানে ছিল। কৃষি অফিস সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, সরিষার পাশাপাশি ধানসহ অন্যান্য ফসল উৎপাদনেও কৃষকরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। কৃষকদের দাবি অনুযায়ী বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখলে উৎপাদন আরও বাড়বে। কৃষকের মুখে হাসি ফুটলেই দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ হবে।