প্রকাশ: সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:১৩ পিএম (ভিজিট : ২০২)

X
ভোলার তজুমদ্দিনে কীর্তন অনুষ্ঠান থেকে এক সন্তানের জননী এক নারীকে (২৫) তুলে নিয়ে রাতভর গণধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত রবিবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া এলাকায় এই নৃশংস ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই নারী গুরুতর আহত অবস্থায় ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
ভুক্তভোগী ওই নারী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২২ ফেব্রুয়ারি বিকেলে চাঁদপুর ইউনিয়নের দড়িচাদপুর শায়েস্তাকান্দি গ্রামের ওই নারী আড়ালিয়া গ্রামে অনীল বাবাজীর তিরোধান উৎসবে (কীর্তন) যোগ দেন। রাত ৯টার দিকে পরিচিত অটোচালক রাকিব, শাকিল ও রাসেল তাকে অটোরিকশায় তুলে নেয়।
এরপর তারা শশীগঞ্জ গ্রামের দাসপাড়া ধোপাবাড়ির মোড় এলাকায় নিয়ে ওই নারীর মুখ চেপে ধরে পাশের একটি সুপারি বাগানে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক চেতনানাশক খাইয়ে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণ করা হয়।
ভোররাতে শশীগঞ্জ দাসপাড়া গ্রামে সেহেরির পর মুসল্লিরা মসজিদে যাওয়ার সময় স্থানীয় ফারুক নামের এক ব্যক্তি ওই নারীকে বিবস্ত্র ও রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয় ব্যবসায়ী স্বপন দাসের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই নারী কথা বলার সময় কথা জড়িয়ে গেলেও জানান যে, রাকিব, শাকিল ও রাসেল নামের তিন যুবক তাকে তুলে নিয়ে রাতভর ধর্ষণ ও নির্যাতন করেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তিনি ওই অভিযুক্তদের বিস্তারিত পরিচয় ও ঠিকানা জানাতে পারেননি।
তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আরএমও ডা. সামছুল আলম সোহেল জানান, ওই নারীকে যখন হাসপাতালে আনা হয় তখন তার প্রচুর রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত পরীক্ষা ও চিকিৎসার জন্য তাকে ভোলা সদর হাসপাতালে রেফার করা হয়েছে।
তজুমদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুস সালাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ হাসপাতাল থেকে রক্তমাখা জামাকাপড় উদ্ধার করেছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে এবং এই ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।