প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১:১৯ পিএম (ভিজিট : ৭৬৬)

X
কথায় আছে ‘ইচ্ছে থাকলে, উপায় হয়’ আর সেই ইচ্ছাশক্তি যদি হয় পাহাড়সম দৃঢ়, তবে কোনো অবজ্ঞাই পথ আগলে দাঁড়াতে পারে না। এর জ্বলন্ত প্রমাণ দিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার কসবা ইউনিয়নের সোনাইচন্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেণির বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার জুঁই।
২০২৬ সালের লিঙ্গুইস্টিক অলিম্পিয়াডে জাতীয় পর্যায়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে সে আজ শুধু নিজের গ্রাম বা উপজেলা নয়, পুরো জেলার গর্বে পরিণত হয়েছে।
সুমাইয়ার এই পথচলা খুব একটা মসৃণ ছিল না। ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর ঢাকা থেকে প্রকাশিত দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন পত্রিকায় তাকে নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছিল, যেখানে তার সাফল্য ও স্বপ্ন পূরণের প্রতিভা অনেকটা তাচ্ছিল্যের চোখেই দেখেছিল এলাকায় । কিন্তু সুমাইয়া দমে যাওয়ার পাত্রী নয়। সেই সমালোচনাই যেন তার জন্য জ্বালানি হিসেবে কাজ করেছে।
সুমাইয়ার এই অর্জন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং কঠোর পরিশ্রমের ফসল। বিভাগীয় পর্যায় ২০২৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর রাজশাহী সরকারি মহিলা কলেজে অনুষ্ঠিত বিভাগীয় প্রতিযোগিতায় ‘ক’ গ্রুপ থেকে ৮ম স্থান অধিকার করে নিজের আগমনী বার্তা দেয় সে। জাতীয় পর্যায় ২০২৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে সারা দেশের মেধাবীদের পেছনে ফেলে ‘ক’ বিভাগে দ্বিতীয় স্থান ছিনিয়ে নেয় সুমাইয়া।রাজকীয় সংবর্ধনায় সংবর্ধিত হলো গত ২১ ফেব্রুয়ারি মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে এক জমকালো অনুষ্ঠানে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী আ.ন.ম. এহসানুল হক মিলন-এর হাত থেকে সে ক্রেস্ট, মেডেল, সনদপত্র ও নগদ ৯ হাজার টাকা পুরস্কার গ্রহণ করে। এ সময় তার শিক্ষক সাথে ছিলেন।
পল্লী গ্রামের একটি সাধারণ কৃষক পরিবারের মেয়ে হয়েও সুমাইয়ার এই অসাধারণ সাফল্যে উচ্ছ্বসিত তার বিদ্যাপীঠ। সোনাইচন্ডী উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রহিম বলেন, “সুমাইয়া জন্মগতভাবেই মেধাবী। তার এই সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে আমরা সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছি এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে।”
সুমাইয়া প্রমাণ করেছে যে, সুযোগ ও সঠিক দিকনির্দেশনা পেলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষার্থীরাও বিশ্বমানের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারে। শিক্ষকদের আন্তরিক সহযোগিতা আর নিজের একাগ্রতায় সুমাইয়া আজ নাচোলের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। যে কলম একদিন এলাকার উচ্চাভিলাসী পাঠকের কাছে তাকে তাচ্ছিল্য করেছিল, সেই উচ্চাভিলাসী পাঠকদের তার বিজয়ের গল্প এলাকার আনাচে কানাচে বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে।
সুমাইয়া জানায় তার এ সাফল্যের পেছনে পরিবারের মা-বাবা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকগণ এবং এলাকার সকল মানুষের স্নেহ, ভালোবাসা ও অন্তর থেকে আমার জন্য দোয়া। আমি ভবিষ্যতে চিকিৎসক হয়ে মানুষের সেবক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পারি এই কামনা করছি।