ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে তিন পথ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির বৃহত্তম সমাবেশের নির্দেশ দেয়ার পর, এখন ইরান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে

2026-02-24T20:28:00+00:00
2026-02-24T20:28:00+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
ইরান ইস্যুতে ট্রাম্পের সামনে তিন পথ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৮:২৮ পিএম   (ভিজিট : ৫২)
X




ইরাক যুদ্ধের পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক শক্তির বৃহত্তম সমাবেশের নির্দেশ দেয়ার পর, এখন ইরান নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুখে দাঁড়িয়ে আছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত কয়েক সপ্তাহের ঘটনাপ্রবাহ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেয়া তথ্যানুযায়ী, ট্রাম্পের সামনে এখন তিনটি প্রধান বিকল্প রয়েছে। তবে প্রতিটি পথই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। আর মিত্র ও উপদেষ্টাদের কাছ থেকে পাওয়া পরামর্শও পরস্পরবিরোধী।


সোমবার ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ ঘোষণা করেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ নিয়ে যা লেখা হচ্ছে তার সবই ভুল। সিদ্ধান্ত আমিই নেব। আমি যুদ্ধের চেয়ে চুক্তিই বেশি পছন্দ করি, কিন্তু যদি চুক্তি না হয় তবে ইরান ও তার জনগণের জন্য দিনটি খুব খারাপ হবে।


হোয়াইট হাউসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের প্রথম পছন্দ হলো সামরিক সংঘাত এড়িয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো। ট্রাম্পের দূত স্টিভ উইটকফ ও জামাতা জ্যারেড কুশনার গত কয়েক সপ্তাহ ধরে এ বিষয়ে ইরানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী বৃহস্পতিবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় আরেকটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে মূল বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’। ট্রাম্প চান ইরান সমৃদ্ধকরণ সম্পূর্ণ বন্ধ করুক, কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এটি তাদের অধিকার ও মর্যাদার বিষয়। তারা এটি ত্যাগ করবেন না। আর তাই আগামী বৃহস্পতিবারের বৈঠকটিই নির্ধারণ করবে ‘যুদ্ধ নাকি চুক্তি’।

সীমিত সামরিক হামলা

যদি কূটনীতি ব্যর্থ হয়, তবে ইরানকে চুক্তিতে বাধ্য করতে ট্রাম্প নির্দিষ্ট কিছু সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার নির্দেশ দিতে পারেন। এর লক্ষ্য হবে ইরানকে এটা বোঝানো যে আমেরিকার হুমকির বাস্তবতা রয়েছে।

সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় রয়েছে ইরানের ব্যালিস্টিক মিসাইল সাইট, পারমাণবিক স্থাপনা বা ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) ভবন।

তবে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধরনের হামলা ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর বদলে আরো ক্ষিপ্ত করে তুলবে। এছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোয় ইরানের পাল্টা হামলার বড় ঝুঁকি রয়েছে।

সরকার পরিবর্তনে বড় মাপের আক্রমণ

সবচেয়ে বিপজ্জনক বিকল্পটি হলো ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা বা রেজিম পরিবর্তনের লক্ষ্যে ব্যাপক আকারে আক্রমণ চালানো। মার্কিন সামরিক বাহিনীর কাছে এ অভিযান চালানোর মতো যথেষ্ট সরঞ্জাম বর্তমানে ওই অঞ্চলে মোতায়েন রয়েছে।

এ পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে ইরানের শীর্ষ নেতা, আইআরজিসি-র স্থাপনা, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্রগুলোয় একযোগে বা কয়েক দফায় হামলা চালানো হতে পারে।

তবে এ ধরনের দীর্ঘস্থায়ী অভিযানের জটিলতা এবং মার্কিন সেনাদের ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন জয়েন্ট চিফস অফ স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন। এছাড়া ইরান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার পর সেখানে কারা স্থলাভিষিক্ত হবে বা বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কী, সে সম্পর্কে ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে স্পষ্ট কোনো চিত্র নেই।

বর্তমান সামরিক প্রস্তুতি

মার্কিন নৌবাহিনীর তথ্যমতে, ওমান সাগরে বর্তমানে দুটি বিমানবাহী রণতরীসহ কয়েক ডজন যুদ্ধজাহাজ ও শত শত যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে। সামরিক পরিকল্পনাকারীরা ইতিমধ্যেই লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করেছে। সেইসঙ্গে কোন ধরণের অস্ত্র ব্যবহার করা হবে তার ব্লু-প্রিন্ট তৈরি করে রেখেছেন।

ট্রাম্পের উপদেষ্টাদের একটি অংশ মনে করছে ইরান বর্তমানে মানসিকভাবে দুর্বল অবস্থানে আছে, তাই এখনই ব্যবস্থা নেয়ার উপযুক্ত সময়। অন্যদিকে, একটি অংশ মনে করছে কূটনীতিই সেরা সমাধান। বৃহস্পতিবার জেনেভায় অনুষ্ঠেয় আলোচনার ফলাফলের ওপরই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ স্থিতিশীলতা।





Loading...
Loading...


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy