প্রকাশ: রোববার, ৯ আগস্ট, ২০২৬, ১:৫০ পিএম (ভিজিট : ১৩)

X
সংগৃহীত ছবি
ভারতের উত্তরপ্রদেশের প্রয়াগরাজে ডেটিং অ্যাপ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে পুরুষদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলে পরে অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেল করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নারী ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এভাবে এখন পর্যন্ত প্রায় ৬ কোটি রুপি, বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা, হাতিয়ে নিয়েছে।
শনিবার (৮ আগস্ট) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তরুণীর নাম পল্লবী সিংহ রাজপুত। তার বিরুদ্ধে যৌনতার ফাঁদে ফেলে ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে এলাহাবাদ হাইকোর্টের এক আইনজীবী লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, পল্লবী বহু পুরুষকে নিজের রূপের জালে ফাঁদে ফেলতেন। পল্লবী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতেন। কখনও বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে পরে কৌশলে তাদের অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও সংগ্রহ করা হতো। এরপর সেসব ছবি ও ভিডিও দেখিয়ে শুরু করা হতো ব্ল্যাকমেল।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইনজীবীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কথিত এই চক্রের বিষয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুযায়ী, অন্তরঙ্গ ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করে পরে অর্থ দাবি করা হতো। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ধর্ষণ ও হত্যাচেষ্টার মতো গুরুতর মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, ওই নারীর করা কথিত মিথ্যা মামলায় অন্তত পাঁচজন ইতোমধ্যে কারাভোগ করেছেন। আইনি ঝামেলা ও সামাজিকভাবে হেয় হওয়ার আশঙ্কায় ভুক্তভোগীদের অনেকে বাধ্য হয়ে অর্থ দিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পল্লবীর দুটি ছবি ভাইরাল হয়েছে। একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে, বিছানায় ছড়ানো ৫০০ টাকার নোটের বান্ডিলের পাশে শুয়ে আছেন তিনি। অন্য ছবিতে তার হাতে আগ্নেয়াস্ত্র দেখা গেছে। তবে এসব ছবির সত্যতা ও উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, নতুন ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে পল্লবী সুইটি তিওয়ারিসহ একাধিক ছদ্মনামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করতেন। অভিযোগ অনুযায়ী, এই কথিত ব্ল্যাকমেল ও অর্থ আদায়ের কাজে দুজন পুরুষ ও দুজন নারী তাকে সহযোগিতা করতেন।
এদিকে অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাটির সত্যতা যাচাই এবং পুরো চক্রের বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করেছে প্রয়াগরাজ পুলিশ।