
X
মুকুলের রঙে-গন্ধে ভরে উঠেছে নওগাঁর আমবাগান। সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ফুটে থাকা হলুদাভ মুকুল যেন প্রকৃতির এক অপূর্ব সাজ।
অনুকূল আবহাওয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবার গাছে মুকুলের পরিমাণ চোখে পড়ার মতো বেশি। তাই ভালো ফলনের স্বপ্ন দেখছেন জেলার আমচাষিরা। ধানের পরেই নওগাঁর কৃষকদের আস্থার প্রধান ফসল এখন আম।
নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। গত বছর ছিল ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর। তখন উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ লাখ ৩১ হাজার টন, কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উৎপাদন নেমে আসে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টনে।
এবার কৃষি বিভাগ ৪ লাখ ৫০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশা উপজেলায় সবচেয়ে বেশি আমের চাষ হয়; এ দুই উপজেলাতেই প্রায় ২০ হাজার হেক্টর জমি জুড়ে রয়েছে আমবাগান।
জেলার বিভিন্ন বাগান ঘুরে দেখা যায়, সারি সারি গাছে ঝুলে আছে মুকুলের থোকা। বড় ও মাঝারি গাছগুলোতে মুকুলের আধিক্য বেশি লক্ষ করা যাচ্ছে। শুধু বাগানেই নয়, বসতভিটা কিংবা রাস্তার পাশের গাছেও মুকুলের সমারোহ চোখে পড়ে। সম্ভাবনাময় ফলনের আশায় বাগান পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন চাষিরা।
আমচাষিদের ভাষ্য, গত বছর শীতের দীর্ঘস্থায়িত্ব ও ঘন কুয়াশার কারণে প্রচুর মুকুল ও ছোট গুটি ঝরে পড়ে, ফলে ফলন ব্যাপকভাবে কমে যায়। তবে এ বছর শীতের তীব্রতা কম এবং কুয়াশাও তুলনামূলক কম হওয়ায় গাছে গাছে মুকুল ভালো এসেছে। এখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ভালো ফলনের আশা করছেন তারা। যদিও বালাইনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে বলে জানান চাষিরা।
সাপাহার উপজেলার তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা আপেল মাহমুদ বলেন, গতবার তার বাগানের মাত্র অর্ধেকের মতো গাছে মুকুল এসেছিল। এবার প্রায় ৮০ শতাংশ গাছে ইতোমধ্যে মুকুল এসেছে, বাকি গাছেও শিগগিরই আসবে বলে আশা করছেন তিনি। বর্তমানে রোদের তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় ছত্রাকের আক্রমণও কম।
পত্নীতলা উপজেলার চাষি রায়হান হোসেন জানান, গত বছর দেরিতে মুকুল এসেছিল এবং অনেক গাছে মার্চের মাঝামাঝি সময়েও মুকুল ধরেছিল। কিন্তু এবার সময়মতো মুকুল আসায় তিনি ভালো ফলনের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পোরশা উপজেলার লিয়াকত হোসেন বলেন, মুকুল আসার পর থেকেই কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত স্প্রে ও পরিচর্যা করা হচ্ছে, যাতে রোগবালাইয়ের আক্রমণ না হয়।
আরেক চাষি জাহাঙ্গীর আলমের মতে, এ বছর প্রায় সব বাগানেই মুকুলের অবস্থা সন্তোষজনক। তবে সার, কীটনাশক ও সেচ খরচ বাড়ায় বাগান পরিচর্যার ব্যয়ও বেড়েছে।
কৃষি বিভাগের উপ-পরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, জানুয়ারির শেষ দিক থেকেই গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। মুকুল ধরার সময় তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং কুয়াশার প্রকোপ কম থাকায় এখন পর্যন্ত ঝরে পড়ার ঘটনা কম। তবে ফলন নিশ্চিত করতে চাষিদের প্রয়োজনীয় কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, অনুকূল আবহাওয়া ও পরিচর্যার সমন্বয়ে নওগাঁর আমবাগানগুলোতে এবার ভালো ফলনের সম্ভাবনা জোরালো হয়ে উঠেছে। কৃষকদের প্রত্যাশা, প্রকৃতি সহায় থাকলে এ মৌসুমে ঘরে উঠবে সোনালি সাফল্য।