প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:৫৯ পিএম (ভিজিট : ৪১)

X
বাংলাদেশের চা শিল্পে সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালের মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় ১৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি বেশি চা উৎপাদিত হয়েছে। যদিও নির্ধারিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি, তবুও সংশ্লিষ্টরা এটি চা শিল্পের জন্য আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
বাংলাদেশ চা বোর্ড-এর প্রকাশিত মাসিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশের মোট চা উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১০ কোটি ৩০ লাখ কেজি। বছর শেষে মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১২ হাজার কেজি। ২০২৪ সালে উৎপাদন হয়েছিল ৯ কোটি ৩০ লাখ ৪২ হাজার কেজি। এর ফলে ২০২৫ সালের মৌসুমে পুর্ববর্তী বছরের তুলনায় উৎপাদন বেড়েছে ১৮ লাখ ৭০ হাজার কেজি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, আবহাওয়ার বৈচিত্র্য ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির সত্ত্বেও উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা দেশের চা শিল্পের স্থিতিশীলতার ইঙ্গিত বহন করে।
চা শিল্পের ১৭০ বছরের ইতিহাসে সর্বোচ্চ উৎপাদন হয়েছে ২০২৩ সালে। ওই বছর উৎপাদন ছিল ১০ কোটি ২৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৯ লাখ ১৮ হাজার কেজি বেশি। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, নতুন ক্লোন জাতের চা গাছ, সম্প্রসারিত চা আবাদ এবং ক্ষুদ্র চা চাষিদের অংশগ্রহণ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে উৎপাদনে ধারাবাহিক উন্নতি এনেছে।
বর্তমানে দেশে মোট ১৭১টি চা বাগান রয়েছে। এর মধ্যে মৌলভীবাজারে ৯০টি, হবিগঞ্জে ২৫টি, চট্টগ্রামে ২২টি, সিলেটে ১৯টি, পঞ্চগড়ে ১০টি, রাঙামাটিতে ২টি এবং ঠাকুরগাঁওয়ে ১টি চা বাগান রয়েছে। দেশের চা চাষাধীন জমির পরিমাণ বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫৮ হাজার ৭৪১ একর।
চা শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা, উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ভবিষ্যতের বড় চ্যালেঞ্জ হলেও উৎপাদন বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা শিল্পটির সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করছে। প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, শ্রমিক কল্যাণ এবং বাজার সম্প্রসারণ নিশ্চিত করলে আগামী বছরগুলোতে আবারও নতুন রেকর্ড সম্ভব।