প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৪:০৩ পিএম (ভিজিট : ৩২০)

X
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনে দেশব্যাপী গুরুত্বপূর্ণ খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি উপজেলা থেকে সর্বাধিক জনগুরুত্বপূর্ণ ও নিষ্কণ্টক দুটি খাল খননের পরিকল্পনা ইতোমধ্যে প্রক্রিয়াধীন।
এই প্রেক্ষাপটে নেছারাবাদ উপজেলা-এর ২ নং সোহাগদল ইউনিয়নের ৭, ৮ ও ৪, ৫, ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যবর্তী কাছারিহুলা থেকে হাওলাদার বাড়ি হয়ে আলকিরহাট পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল পুনঃখননের দাবি জোরালো হয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এক সময় এই খাল দিয়ে বড় বড় কাঠবোঝাই কাডামি নৌকা চলাচল করত। কিন্তু বর্তমানে খালের নাব্যতা হারিয়ে ছোট ট্রলারও চলাচলে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, খালের দুই পাড়ে কিছু কাঠ ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে কাঠ মজুত করে পানির স্বাভাবিক প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করছেন। ফলে খালের তলদেশে পলি জমে চর সৃষ্টি হয়েছে এবং ধীরে ধীরে খালটি ভরাট হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায়।
স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, এই প্রধান খালের পূর্ব ও পশ্চিম পাড়ে অসংখ্য বাইপাস খাল ছিল, যেখানে সারাবছর পর্যাপ্ত পানি থাকত। হাজার হাজার মানুষ গৃহস্থালি কাজ, গোসল ও কৃষিকাজে সেই পানি ব্যবহার করতেন। কিন্তু খালগুলো ভরাট ও মৃতপ্রায় হয়ে যাওয়ায় এক শ্রেণির ভূমিদস্যু সেগুলো দখল করে নিয়েছে। এতে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, জরুরি ভিত্তিতে খালটি পুনঃখনন করে নাব্যতা ফিরিয়ে আনা হলে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে, জলাবদ্ধতা কমবে এবং নৌপথে চলাচল সহজ হবে। পাশাপাশি খালের পাড়ে বৃক্ষরোপণ করলে পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত হবে।
সরকারের চলমান খাল পুনঃখনন কর্মসূচির আওতায় সোহাগদলের এই গুরুত্বপূর্ণ খালটি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হলে এলাকার দীর্ঘদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটবে এবং প্রাণ ফিরে পাবে ঐতিহ্যবাহী খালটি।