
আম অত্যন্ত সুস্বাদু ও জনপ্রিয় গ্রীষ্মকালীন ফল। এটি ফলের রাজা হিসেবেও পরিচিত। সামনে গ্রীষ্মকাল, আর এখনই মানিকগঞ্জের ভোরের বাতাসে এক ধরনের মিষ্টি ঘ্রাণ ভেসে আসছে।
বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশে, পুকুর পাড়ে, ফসলের মাঠে বাগানে আম গাছের ডালে-ডালে এখন মুকুলের ছড়াছড়ি। ঋতুরাজ বসন্তের আগমনী বার্তা যেন জানিয়ে দিচ্ছে। দেখে মনে হচ্ছে আমের মুকুলে গাছ যেন সেজে বসে আছে। আর কয়েক মাস পরেই পাঁকা আম যেন চারিদিক রঙিন করে তুলবে।
জানা গেছে, আমে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন গুণ রয়েছে। এটি হার্টের স্বাস্থ্য রক্ষায় দারুন ভূমিকা রাখে। এটি রসালো ফল হওয়ায় শরীর শীতল রাখে ও চোখের দৃষ্টিশক্তি ভাল রাখে। এছাড়া, ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে। কাঁচা আম দিয়ে চাটনি, আচার এবং পাঁকা আমের জুস তৈরি করা হয়ে থাকে। গ্রীষ্মের এই ফল যেমন পুষ্টিকর, খেতেও তেমন সুস্বাদু। তাই এই ফল সারাবিশ্বে সমাদৃত।
সরেজমিন জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা যায়, আম গাছের প্রতিটি ডাল যেন এখন হলুদ হয়ে গেছে। মুকুলের কারণে গাছে তেমন পাতা দেখা যাচ্ছে না। বাতাসে আমের মুকুলের সুঘ্রাণ পাওয়া যাচ্ছে। আর এমন সুবাস এর মানেই হলো আমের ফলন বেশি হবার সম্ভাবনা। তবে, এবার ঝড় না হলে প্রচুর আমের ফলন হবে বলে স্থানীয়রা বলছেন। জেলার বিভিন্ন স্থানে বাড়ির আঙিনার পাশাপাশি বাগান তৈরি করে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষ করছেন অনেকেই। এতে নতুন অনেক আমের বাগান গড়ে উঠেছে। তবে, বড় গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি গেছে আমের বেশি ফলন হয় বলে চাষিরা জানিয়েছেন। আম্রপালি, হিমসাগর, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, ফজলি ও দেশী নানা জাতের আম চাষ করেন স্থানীয়রা। এসব গাছে মুকুল আসার সাথে-সাথে চাষিরা গাছের পরিচর্যা করতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। গাছে পানি দেয়া, সার ও কীটনাশক দিয়ে নিয়মিতভাবে তারা পরিচর্যা করছেন।
মানিকগঞ্জের শিবালয়ের নয়াকান্দি এলাকার মামুন মুন্সী বলেন, এবার আমাদের গাছে যে পরিমাণ আমের মুকুল এসেছে, যদি আবহাওয়া ভাল থাকে আর ঝড় না হয় তবে প্রচুর আম টিকবে। এতে পরিবারের সবাই মিলে এবং আত্মীয়-স্বজনদের নিয়ে আম ভাগাভাগি করে খেতে পারব।
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, দিন যাচ্ছে বাণিজ্যিকভাবে আম চাষের পরিধি বাড়ছে। মুকুল আসা থেকে শুরু করে ফল ধরা পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে-ধাপে কৃষি অফিস থেকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানা গেছে।