প্রকাশ: বুধবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৫:৩৩ পিএম (ভিজিট : ৩৩)

X
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর গার্ডার সেতু নির্মাণের ৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ হয়নি। জমি অধিগ্রহনের জন্য অর্থ চাড় না হওয়ায় আটকে আছে সড়কের কাজ।
ফলে ৯ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হচ্ছে গাংনী ও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার বাসিন্দাদের। অর্থ চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়া হয়েছে। অর্থ ছাড় হলেই জমি অধিগ্রহণ ও রাস্তা নির্মানকাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় নির্বাহী প্রকৌশলী।
জানা গেছে, ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে বামন্দী এইচডি থেকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর জিসি ভায়া মধুগাড়ি ঘাট সড়কের মাথাভাঙা নদীর ওপর গার্ডার সেতু নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। নির্মাণ কাজ শুরু হয় ২০২০ সালের ২ ফেব্রুয়ারি। সেতুর ব্যয় ধরা হয় ৭ কোটি ২৯ লাখ ৩২ হাজার ৯৭৯ টাকা। সেতুটি নির্মাণের ফলে মেহেরপুর ও কুষ্টিয়ার বাসিন্দারা ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও শিক্ষাসহ নানা সুবিধা পাবে। ২০২৩ সালের মার্চ মাসে সেতুটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক করা হয়নি। স্থানীয়রা সংযোগ সড়কের জন্য জমি দিতে নারাজ হলেও পরবর্তীতে জমি দিতে রাজি হন। তবে জমির মূল্য না দেয়ায় রাস্তা নির্মান করতে দেয়া হয়নি।
দেখা গেছে, মাথাভাঙ্গা নদীর ওপর দুই জেলার মানুষের জন্য তৈরি সেতুর দৌলতপুর অংশে সংযোগ সড়ক নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। গাংনী অংশে এখনো হয়নি। সেতু নির্মিত হলেও এখনো ভোগান্তি দূর হয়নি দুই পাড়ের লক্ষাধিক মানুষের। ফলে চিকিৎসাসেবা কিংবা ফসলাদি নিয়ে এপারের মানুষকে ওপারে যেতে হলে ৯ কিলোমিটার ঘুরতে হচ্ছে। আর যারা ঘুরতে চান না তারা স্থানীয় বাচ্চা বা স্থানীয় লোকজনদেরকে টাকা দিয়ে যানবাহন ঠেলে পার করিয়ে নিচ্ছেন।
কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি বড়গাংনীর সোহরাব জানান, একযুগ ধরে তিনি দৌলতপুর ও গাংনী এলাকায় ব্যবসা করছেন নদী পার হয়ে। সেতু নির্মাণের খবরে এলাকাবাসী খুশি হলেও নির্মাণের পর আর সেটি নেই। সংযোগ সড়ক না থাকায় সুফল পাচ্ছেন না তারা। সেতু পার হয়ে আসা মুরগি ব্যবসায়ি রিফাত জানান, সংযোগ সড়ক না থাকায় মুরগি বহনকারী ভ্যান পারাপার করতে লোকজনকে টাকা দিতে হয়। প্রতিটি ভ্যানের জন্য ৫০ টাকা আর মালামাল বোঝাই ভ্যানের জন্য দিতে হয় ১০০ টাকা।
গাংনী উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী রোকুনুজ্জামান জানান, সেতু নির্মাণের আগে স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করেই কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়। তবে যারা জমি দিতে চেয়েছিলেন তারা বাজারমূল্যের চেয়ে দ্বিগুণ দাম চান। এখন ন্যায্য মূল্য নিয়েই দিতে চান জমির মালিকরা। তবে অর্থ ছাড় না দেয়ায় অধিগ্রহণ সম্ভব হচ্ছে না। কবে নাগাদ অর্থ ছাড় হবে সেটিও অনিশ্চিত।