
X
আগামীকাল বৃহস্পতিবার মানিকগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনের আগের দিন (আজ) নির্বাচনকে ঘিরে অনিয়ম, পক্ষপাতিত্ব ও রাজনৈতিক প্রভাবে প্রতিপক্ষের ১৪ জনের মনোনয়ন পত্র বাতিল করার অভিযোগ উঠেছে। ১৯৮৪ সালে সমিতির কার্যনির্বাহী পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর এবারই প্রথম ১৫টি পদের মধ্যে বিএনপির দুই প্রার্থীর মধ্যে শুধু সাধারণ সম্পাদক পদে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু রাখতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম মনোনীত প্যানেলের বাইরে একমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বিএনপি নেতা আজাদ হোসেন খান আজ বুধবার বিকেলে জেলা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন।
এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা ও দলীয় নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ কোন্দল নিয়ে প্রকাশ্যে প্রশ্ন তোলেন।
আইনজীবি সমিতির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আজাদ হোসেন খান অভিযোগ করেন, যারা বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের নেতৃত্ব দিচ্ছেন তাদের অধিকাংশই বিগত ১৬ বছরে বিএনপির সরকার বিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন না। তারা দলের হাইব্রিড বিএনপি। আইনজীবী সমিতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য নির্বাচন কমিশনারগন নিজেরা উপস্থিত থেকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থীদের মনোনীত করেছেন। এছাড়া ভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করেছেন যা বারের ইতিহাসে হয়নি। এটা সম্পূর্ন অনিয়ম। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা আমি মানতে পারিনি। এই কারণে নির্বাচনের আগের দিন নির্বাচন কমিশনারের অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করছি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত বিগত নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট একেএম কায়সার বলেন, ১৯৮৪ সালে প্রতিষ্ঠার পর এবারের নির্বাচন ইতিহাসকে কলঙ্কিত করেছে। আওয়ামী মনোভাবাপন্ন কয়েকজন আইনজীবী সভাপতি,সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন পদে মনোনয়নপত্র কিনে জমা দিলেও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও বিভিন্ন অজুহাতে তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে। এতে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ক্ষুন্ন হয়েছে। এই কারণে পুনঃতফসিল ঘোষণার দাবী জানান তিনি।
জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি আওয়ামীলীগ নেতা খলিলুর রহমান এই নির্বাচনকে হ-য-ব-র-ল আখ্যা দিয়ে বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত প্রহসনের নির্বাচন। তিনি সর্বদলীয় অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য পুনঃতফশিল ঘোষরা দাবী জানান।
মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়ার বিএনপি ঘরোয়ানা আইনজীবী বারের সাবেক সহসভাপতি শামছুল হক বলেন, তিনি সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী ছিলেন। কিন্তু তার প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে। আপিল করা হলেও তার প্রার্থীতা বহাল করেনি। নির্বাচন কমিশনার স্বেচ্ছাচারিতা করেছে।
অন্যদিকে জাতীয়তাবাদি আইনজীবী ফেরামের সভাপতি ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার মো. মেজবাউল হক মেজবা এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, যেসব প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে তা অতীতের নির্বাচনী ফরমেট অনুযায়ী হয়েছে। মনোনয়ন পত্রে প্রার্থী, প্রস্তাক ও সমর্থকের স্বাক্ষর ও নাম লেখার বিধান ছিলো। যাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল হয়েছে তাদের কারো স্বাক্ষর ছিলো কিন্তু নাম ছিলোনা। আবার কারো নাম ছিলো স্বাক্ষর ছিলো না। এসব কারণে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে ও একজন প্রার্থী মনোনয়ন পত্র প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। এছাড়া গত বছর জামায়ত ইসলাম প্যানেল দিয়েছিল। এবার জামায়াত প্যানেল দেয়নি তবে সভাপতি পদে ও সাধারণ সম্পাদক পদে আওয়ামীলীগ করা আইনজীবী প্রার্থী হয়েছিলেন আমরা তাদের চিহ্নিত করেছি। নানা কারণে তাদের মনোনয়ন পত্র বাতিল করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রে বাতিল প্রার্থীদের জন্য আপিলের কোনো সুযোগ নেই বলেও জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক আজাদ হোসেন খানের দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করছেন।দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে দলীয় ফোরাম থেকে শোকজ করা হয়েছে।
এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম প্যানেলের ১৪ প্রার্থীর মধ্যে আজাদ হোসেন খানের স্ত্রী সানজিদা রহমান সহসভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন। নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কমিশন সব প্রস্তুতি নিয়েছে। এবার ৬১৪ ভোটার শুধুমাত্র সাধারণ সম্পাদক পদে ভোট প্রদান করবে।