
X
পাবনার ভাঙ্গুড়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি)অনুমোদিত ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পে অগভীর নলকূপ সচল থাকা সত্তে¡ও সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নীতিমালা লঙ্ঘন করে অনুমোদিত জমির নক্সার(ক্যাচমেন্ট এলাকায়) মধ্যে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি'র উপসহকারি প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহম্মেদ(সেচ)'র বিরুদ্ধে পুনরায় অগভীর নলক‚প স্থাপনে অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ দিয়েছে পূর্বের অনুমোদিত সেচ প্রকল্পের মালিক পক্ষ।
ঘটনার স্থানটি হচ্ছে,উপজেলার পারভাঙ্গুড়া ইউপি'র হাটগ্রাম মৌজায় বাংলাদেশ কৃষিউন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি)অনুমোদিত ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের নক্সা(ক্যাচমেন্ট এরিয়ার)এলাকা মধুরগাথীঁ গ্রামের উত্তর ও ঐহিত্যবাহী বিল রুহুলের দক্ষিণ মাঠে।
অনুমোদিত সেচ প্রকল্পের মালিকদের পক্ষে বিভিন্ন দপ্তরে দেওয়া অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি(ক্ষুদ্র সেচ)'র উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহামেদ সরকারী নীতিমালা লঙ্ঘন করে উপজেলার 'হাটগ্রাম' গ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন ও গহের প্রাং-এর ছেলে হাফিজুর খাঁর যোগসাজশে কথিত নক্সা(ক্যাচমেন্ট এরিয়া)এলাকা তৈরি করে উল্লেখিত স্থানে নতুন করে পুনরায় অগভীর নলকুপ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।বিষয়টি নিয়ে এলাকায় কৃষকদের মধ্যে উত্তেজনা পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
ইতিপূর্বে কয়েক দফা স্থানীয়ভাবে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি (ক্ষুদ্রসেচ)প্রকল্পের মালিক গণ উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহমেদের নিকট মৌখিক ভাবে অভিযোগ দিলে তিনি তা কর্ণপাত করেন নি।
ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পের ম্যানেজার মোছাঃ মাজেদা খাতুন(অনক্-৭ লাইসেন্স ধারী,)গত ২০২৫ খ্রিঃ-এর ২২ডিসেম্বর বিএডিসি(কৃষিসেচ) চেয়ারম্যান,ঢাকা বরাবর এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দপ্তর সমূহে অনুলিপি প্রেরণ করেন ।অভিযোগের পরে উপসহকারী প্রকৌশলী (ক্ষুদ্রসেচ)বিএডিসি ভাঙ্গুড়া ও সদস্য সচিব উপজেলা সেচ কমিটি ভাঙ্গুড়া, এক জরুরী সভায় উল্লেখিত সেচ প্রকল্পের সদস্যবৃন্দের সাথে আলোচনা সাপেক্ষে পরিশিষ্ট (ছক-ঘ)তে উপস্থাপিত কামাল হোসেন ও হাফিজুর খার নামে,নতুন করে সেচপ্রকল্প স্থাপনের আবেদন গুলো স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। অনুমোদিত স্কীমের ম্যানেজার মাজেদা খাতুন গং গণমাধ্যম কর্মিদের ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পের কাগজপত্র প্রদর্শন করে জানান,ভাঙ্গুড়া উপজেলা ক্ষুদ্রসেচ কমিটির জরুরী সভার সিদ্ধান্ত কে অগ্রায্য করে, হাটগ্রামের কলিম উদ্দিনের ছেলে কামাল হোসেন ও গহের প্রাং-এর ছেলে হাফিজুর খার সাথে যোগসজসে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি (ক্ষুদ্রসেচ) প্রকল্পের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ কাওছার আহমেদ সরকারী সেচনীতি মালা লঙ্ঘন করে উল্লেখিত হাটগ্রাম মৌজার বিল রুহুলের দক্ষিণ অংশের জমিতে নতুন করে অগভীর নলকুপ স্থাপনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
স্কীম ম্যানেজার মাজেদা খাতুনের সরবরাহ কৃত কাগজ পত্র সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পার-ভাঙ্গুড়া ইউনিয়নের হাটগ্রামের মোসলেম উদ্দিনের কন্যা ও একই গ্রামের বেলালুর রহমানের স্ত্রী মাজেদা খাতুনকে ৩০ নভেম্বর ২০২২ইং সালে জে এল নং ৬০ খতিয়ান নং ১৩৩০ ও ২৮৭৭ দাগে অগভীর নলক‚প স্থাপন করার লাইসেন্স প্রদান করেন,তৎকালীন নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খান।সেই সময় থেকে মাজেদা খাতুন ম্যানেজার হিসেবে প্রায় ৪ বছর ধরে অনক্- ৭নং লাইসেন্স মূলে ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পটি সুন্দর ভাবে পরিচালনা করে আসছেন।গত ২৬ জুন ২০২৪ সালে ভাঙ্গুড়া উপজেলা বিএডিসি'র উপ-সহকারি প্রকৌশলী মোঃ কাওছারের আহম্মেদ সরকারী নীতিমালা ভঙ্গ করে ২৯১২, ২৯২৩, ২৯২৪, ২৯২৫, ২৯২৬, ২০৫২, ২০৫৭, ২৯৩১,২৯৩৬,২৯২৯ নং দাগে প্রায় ৩০ বিঘা জোত ভ‚মি পূর্বে বিএডিসি অনূমোদিত মাজেদা খাতুনের নামে স্থাপিত অগভীর সেচ প্রকল্প এলাকা(এরিয়া)থেকে জমি কর্তন করে পার্শ্ববর্তী মধুরগাঁথী গ্রামের আব্দুস সাত্তার ছেলে হাফিজুর রহমানের নামে আবেদন দেখিয়ে নতুন ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্পের অনুমোদন করিয়ে দেন।মাজেদা খাতুন জানান,অনুমোদিত ক্যাচমেন্ট এরিয়া থেকে জোত ভ‚মি কর্তন করে বার বার নতুনসেচ প্রকল্প স্থাপনের অনুমতি দিলে তার নামে স্থাপিত সেচ প্রকল্পটি মূলত বন্ধ হয়ে যাবে।
মাজেদা খাতুন উদ্বেগের সাথে জানান, ভাঙ্গুড়া উপজেলা উপ-সহকারী প্রকৌশলী(সেচ) কাওছার আহমেদ নীতিমালা লঙ্ঘন করে পার্শ্ববর্তী অগভীর নলক‚প গুলো থেকে বোরিং দূরত্বের মিথ্যা তথ্য দিয়ে,কৌশলে বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করে আবেদন কৃত ব্যক্তিদের অবৈধভাবে অগভীর নলক‚প স্থাপনের লাইসেন্স পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।এ নিয়ে প্রকল্প এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে।অভিজ্ঞ মহল জানান,যে কোনো মুহূর্তে এলাকায় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন(বিএডিসি)ভাঙ্গুড়া উপজেলার ক্ষুদ্রসেচ ইউনিটের উপ সহকারি প্রকৌশলী ও উপজেলা সেচ কমিটির সদস্য সচিব মোঃ কাওছার আহম্মেদ,তার উপর আনিত অভিযোগ অস্বীকার করেন। কিন্তু অনুমোদিত ক্যাচমেন্ট এলাকার মধ্যে পুনরায় নতুন অগভীর নলকুপ স্থাপন,এমন প্রশ্নের কোনো সদত্তোর তিনি দেন নি।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা ক্ষুদ্রসেচ প্রকল্প কমিটির সভাপতি তাপস পাল-এর অফিসাল কর্পোরেট মোবাইল নাম্বারে একাধিক বার ফোন করলেও তিনি রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয় নি।