প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২:০৫ পিএম (ভিজিট : ৫৩)

X
মেহেরপুরের গাংনীর বিভিন্ন এলাকার আমবাগানে গাছে গাছে শোভা পেতে শুরু করেছে আমের মুকুল। বাগান মালিকরা বেজায় খুশি। প্রাকৃতিক দূর্যোগ, হপার পোকার সংক্রমণ প্রতিরোধ সহ ফলের গুটি যেন ঝরে না যায় সেজন্য গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আম চাষীরা। সঠিক পরিচর্যা ও আবহাওয়া অনুকলে থাকলে বাম্পার ফলনের আশা করছেন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা।
ঋতুরাজ বসন্তের শুরুতে হিমসাগর ও লেংড়া আমের জন্য প্রসিদ্ধ গাংনীর আমবাগানগুলিতে ফলের রাজা আমের মুকুলে ভরে উঠেছে। প্রতিটি ডালে শোভা পাচ্ছে সোনালী মুকুল। আমগাছের শাখাগুলো ভরে গেছে উজ্জ্বল সোনালী মুকুলে, যেন আকাশের বুকে সোনালী ডানা মেলে দিয়েছে গাছগুলো। জেলার বিখ্যাত উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে অন্যতম হিমসাগর ও লেংড়া আম। স্বাদ ও গন্ধের কারণে দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে এ জেলার আম। এজন্য বাণিজ্যিকভাবে গড়ে উঠেছে অনেক আমবাগান।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে এ বছর গাংনীতে এক হাজার ৬১ হেক্টর জমিতে আম বাগান আছে। যার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৮ হাজার ১৫৭ মেট্রিক টন। চাষিরা আগে থেকেই বাগান পরিচর্যা হপার পোকা দমনে অগ্রিম কীটনাশক প্রয়োগ সহ গাছে সার ও পানির ব্যাবস্থা করায় ব্যাপক মুকুল এসেছে। বাগান মালিকরা আশা করছেন এবছর গেল বছরের তুলনায় এবার বেশি ফলন হবে।
কয়েকজন বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা জানান, এক বিঘা জমিতে আমের গাছ থাকে ৮ থেকে ১০ টি। প্রতি বিঘা জমির বাগান পরিচর্যা কীটনাশক প্রয়োগ সার ও সেচ দিয়ে আম বাজার জাত করা পর্যন্ত ৪০ থেকে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলন আশানুরুপ হলে ওই বাগান থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত আম বিক্রি করা সম্ভব। সেই হিসাবে খরচ বাদ দিলে ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা ঘরে আসে।
আমঝুপি গ্রামের আম চাষী ইনতাজুল ইসলাম জানান, তার দেড়’শ বিঘা জমিতে আমের বাগান আছে। এবার আমের শতভাগ মুকুল এসেছে। প্রাকৃতিক দূর্যোগ না হলে ও আমের বাজার ভাল পেলে ভাল লাভবান হবার আশা করছে তিনি।
গাংনীর সহড়াবাড়িয়া গ্রামের আম বাগান মালিক বোরহান উদ্দীন জানান, এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় আম গাছে আগাম মুকুল এসেছে। কৃষি বিভাগের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পরামর্শ গ্রহণ করছি। কর্মকর্তারা বাগানে এসে আমের ভালো ফলন পাওয়ার বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ প্রদান করছেন। সেই হিসেবে আমে যাতে হপার পোকার আক্রমন না হয় সেজন্য বাগানগুলিতে স্প্রে করা হচ্ছে।
গাংনী উপজেলা কৃষি অফিসার মতিয়র মুন্না জানান, এবার আমের মুল এসছে প্রচুর। আবহাওয়া খুব ভাল আছে। কৃষি বিভাগ থেকে সময়মত কীটনাশক প্রয়োগ সহ বাগান পরিচর্যার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বড় কোন প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে এবার জেলায় আমের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।