প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ৩:৪৭ পিএম (ভিজিট : ৩১)

X
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বেগুন ও শসা চাষিদের জন্য আশির্বাদ হয়ে এসেছে রমজান মাস। বাজার দর বৃদ্ধি পেয়ে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ায় হাঁসি ফুটেছে এসব বেগুন ও শসা চাষিদের মুখে। ১০ টাকা দরের শসা এখন বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে।
আর ৩০ টাকা দরের বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা থেকে ১০০ টাকায়। এমন দামে ভোক্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করলেও চাষি আর ব্যবসায়ীরা বেশ খুশি।
গাংনী বামন্দি কাঁচা বাজারের আড়ৎদার আব্দুল আজিজ জানান, রমজানের দিন পনেরো আগে প্রতি কেজি শসা বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১২ টাকা দরে। আর প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয়েছে ২৫/৩০ টাকায়। এর আগে বেগুন ও শসা কেনার লোকও পাওয়া যায়নি। ফলে বেগুন শসা পচে গেছে। কিন্তু রমজানের শুরু থেকেই বেগুন ও শসার চাহিদা বেড়েছে আশংকাজনক হারে। সেই সাথে বেড়েছে দামও।
সাহারবাটি গ্রামের সবজি চাষি তহশিন আলী জানান, বেগুন ও শসা বর্তমানে গাংনীর চাষিদের কাছে একটি জনিপ্রয় চাষ রমজানের আগে বেগুন ও শসা কম দামে বিক্রি করে লেবার খরচ হয়নি। রমজান মাস আসায় বেগুন ও শসা চাষিদের কপাল খুলেছে। শসা এখন আড়তে বিক্রি হচ্ছে ৮৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা কেজি দরে। আর বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকায়। খুচরা বাজারে প্রতি কেজি শসা ১২০ আর বেগুন ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
একই কথা জানালেন জোড়পুকুর গ্রামের শসা চাষি ইমারুল। তিনি আরো জানান, যে ব্যবসায়ীরা শসা কেনা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল তার্ইা এখন শসা কিনতে ভিড় জমাচ্ছে চাষিদের কাছে। বাজার চড়া হওয়ায় এখন একই সাথে চাষি এবং ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছে। বেগুন চাষি আব্দুল হাকিম জানান, বেগুন প্রতিকেজি আড়তে বিক্রি হয়েছে ২০/২৫ টাকায়। ১০ দিনের ব্যবধানে সেই বেগুন দামে সেঞ্চুরী পার করেছে।
ঢাকা কাওরান বাজারের কাঁচামাল ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, রমজানের আগে শসা কিনে মোটা অংকের লোকসান গুণেছি। কিন্তু রমজান মাস আসায় চাহিদা বেড়ে গেছে। ফলে বাজার দরও বেড়ে গেছে। এখন আগের লোকসান অনেকটায় কাটিয়ে উঠেছি।
ক্রেতা সাধারণ জানান, রমজানে দ্রব্য মুল্যের স্থীতিশীল রাখা দরকার। বেগুন ও শসার দাম বেড়েছে আশঙ্কাজনক হারে। এটা চাষি ও ব্যবসায়িদের স্বেচ্ছাচারিতা। সাধারণত ৫/১০ টাকা দাম বাড়লেও ক্রেতা সাধারনদের নাগালের মধ্যে থাকে কিন্তু বর্তমান মুল্য বৃদ্ধি যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ।
গাংনী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আনোয়ার হোসেন জানান, তিনি দ্রব্য মুল্য স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন বাজারে আড়তদার ব্যবসায়ি এবং চাষিদের সাথে কথা বলবেন। প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।