
X
কৃষকেরা এখন আধুনিক চাষাবাদের দিকে ঝুকছে। বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে এ রকম একটি আধুনিক মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন কৃষক মো.জহুরুল ইসলাম ও তার মেয়ে মোছা.লিজু খাতুন।
মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষাবাদ করলে জনবলসহ খরচ কম লাগে। জমি রোগ-বালাই থেকে মুক্ত থাকে, ফলন বেশি হয় এবং গাছের জীবন দীর্ঘ হয়। এই পদ্ধতি এলাকায় জনপ্রিয় হলে উৎপাদন বৃদ্ধি সহ কৃষকেরা বেশ লাভবান হবেন বলে আশাবাদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ।
সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানাযায়, মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করতে হলে প্রথমে জমিকে উত্তমরূপে তৈরি করে প্রয়োজনীয় জৈব ও রাসায়নিক সার মিশিয়ে বেড তৈরি করতে হবে। এরপর বেডে উন্নত জাতে
বীজ বপন করতে হয়। তারপর বেডগুলো মালচিং পেপার দিয়ে ঢেকে দিতে হয়। মালচিং পেপার হলো বিশেষ ধরনের পলি পেপার (পলিথিন)। বীজগুলি থেকে চারা গজানোর পর চারার স্থানগুলি থেকে মালচিং পেপার ছিঁড়ে দিতে হয়। যাতে করে চারাগুলি মাথা তুলে বড় হতে পারে।
এই মালচিং পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে জমিতে আগাছা জন্মাতে পারে না। সেচের অতিরিক্ত পানি জমে জমি বিনষ্ট হয় না। অতিরিক্ত সারের প্রয়োজন হয় না। ফলে জমি চাষাবাদে শ্রম কমে যাওয়ায় কৃষি শ্রমিক কম লাগে। উৎপাদন খরচ কমে যায়। জমির উর্বরাতা শক্তি বৃদ্ধি পায়। ফলন অনেক বেশি হয়। গাছের আয়ু বৃদ্ধি পাওয়ায় দীর্ঘ সময় পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। এতে করে কৃষক সবদিক থেকে লাভবান হয়।
সারিয়াকান্দি উপজেলার নারচী ইউনিয়নের শেখাহাতি গ্রামের কৃষক মো. জহুরুল ইসলাম প্রথমবারের মতো এই মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
তিনি এই প্রতিবেদকে জানান, এবছর এক বিঘা জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর চাষাবাদে আমার সর্বমোট খরচ হয়েছে ৪০ হাজার টাকা। এর মাঝে সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ
অধিদপ্তর থেকে (এসএসিপি-রেইনস্) প্রকল্পের আওতায় আমার মেয়ে মোছা. লিজু খাতুনের নামে উন্নত জাতের বীজ, মালচিং পেপার, জৈব সার, রাসায়নিক সার, স্প্রে মেশিন, পানি দেওয়া ঝাঝরি, পোকা- মাকর দমানোর জন্য ইয়ালো আঠালো ফাদ, কীটনাশক ও ছত্রাক নাশক বিনামূল্যে দিয়েছে। এতে মুলত আমার খরচ হয়েছে পনেরো হাজার টাকার মতো। আমি এ পর্যন্ত ১ লাখ ৭ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। এখন জমিতে যে রকম টমেটো আছে তাতে আশাকরি আর এক লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো।
তিনি আরও জানান, প্রথমবারের সফলতায় তিনি মালচিং পদ্ধতি আরও ২ বিঘা জমিতে শসার চাষ করেছে। শসার ফলনও খুব ভালো হয়েছে আর পনের দিন পর থেকে শসা বিক্রি করতে পারবেন। তিনি তার মতো করে অন্যান্য কৃষকদেরও আহ্বান জানান মালচিং পদ্ধতিতে চাষ করতে। আর সেই ক্ষেত্রে তিনি কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন বলেও জানান।
তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শে কৃষক জহুরুল ইসলাম মালচিং পদ্ধতিতে টমেটোর আবাদ করে বেশ লাভবান হয়েছেন দাবি করে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে অল্প শ্রম আর খরচে অনেক বেশি লাভ হয়। তিনি আশা করেন ভবিষ্যতে এই পদ্ধতিতে চাষাবাদ বৃদ্ধি পাবে সারিয়াকান্দি উপজেলা জুড়ে ৷ আর এতে করে এলাকার সবজির চাহিদা পূরণসহ কৃষকেরা লাভবান হবেন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার কৃষিবিদ মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, বর্তমান সময়ে মালচিং পদ্ধতি জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে তুলনামূলকভাবে অধিক ফলন আসে। মালচিং পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল টমেটোর ফলনও ভালো দেয়। এখন বাজারে এর চাহিদা ও দাম বেশি।
তিনি আরও বলেন, প্রথমবারের মতো এ জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে বাজিমাত করেছেন লিজু ও জহুরুল। তাদেরকে উপজেলা কৃষি অফিস থেকে যথেষ্ট সহযোগিতা করা হয়েছে। দাম ভালো পাওয়ায় কৃষকরা অধিক লাভবান হচ্ছেন। তাছাড়া এখন জহুরুল ইসলাম কে দেখে আশে-পাশের অনেকেই এ জাতের টমেটো চাষে উদ্ধুদ্ধ হচ্ছেন। এসব কৃষককে সব সময় কৃষি অফিস থেকে সব ধরনের সহযোগিতা ও পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।